ভারতীয় সংবাদচিত্র এবং ফটোগ্রাফির জগতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি চিত্রসাংবাদিক রঘু রাই। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকস্তব্ধ সংবাদ ও শিল্পমহল। শিল্পীর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলের মাধ্যমে তাঁর পরিবার এই দুঃখজনক সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। জানা গিয়েছে, আজ বিকেল ৪টেয় দিল্লির লোধি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
ফটোগ্রাফির ‘ভীষ্মপিতামহ’
রঘু রাইকে ভারতীয় চিত্রসাংবাদিকতার ‘জনক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পাঁচ দশকেরও বেশি দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি কেবল ছবি তোলেননি, বরং লেন্সের ফ্রেমে বন্দি করেছেন সমকালীন ইতিহাসকে। ১৯৭১ সালে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।
যে ছবি কাঁপিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে
১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার পর তাঁর তোলা সেই বিখ্যাত ছবি—মাটির নিচে চাপা পড়া এক নিষ্পাপ শিশুর নিথর মুখ—নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। কর্পোরেট দায়বদ্ধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে তুমুল বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তার মূলে ছিল রঘু রাইয়ের সেই অমোঘ ক্লিক।
ইন্দিরা গান্ধী থেকে সত্যজিৎ রায়: রঘু রাইয়ের লেন্সে মহাতারকারা
কেবল ট্র্যাজেডি নয়, সেলিব্রিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্দরমহলের ছবি তুলতেও তাঁর জুড়ি ছিল মেলা ভার। তাঁর লেন্সে ধরা দিয়েছেন:
সদ্য প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়।
আধ্যাত্মিক গুরু দালাই লামা।
শিবসেনা প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে।
মাদার টেরেসা (তাঁর ওপর তোলা সিরিজটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত)।
এছাড়াও তাজমহলের ওপর তাঁর করা কাজ আজও ফটোগ্রাফি শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠ্যবইয়ের মতো।
এক নজরে বর্ণময় জীবন
১৯৪২ সালে অবিভক্ত ভারতের ঝাং-এ (বর্তমান পাকিস্তান) জন্ম গ্রহণ করেন রঘু রাই। ১৯৬২ সালে শখের ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে ছিলেন ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এ, পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় যুক্ত ছিলেন ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র সঙ্গে। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফটোগ্রাফি সংস্থা ‘ম্যাগনাম ফটোজ’-এর সদস্য হওয়া প্রথম ভারতীয়দের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় সাংবাদিকতার এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল।





