বিজেপিতে যেতেই মোহভঙ্গ? ২৪ ঘণ্টায় ১০ লক্ষ ফলোয়ার হারালেন রাঘব চাড্ডা, চটে লাল নেটপাড়া!

দিল্লির রাজনীতিতে বড়সড় ভূমিকম্প! গত শুক্রবার অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী এবং রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিয়েছেন। শুধু তিনি একাই নন, আপ-এর দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকে সাথে নিয়ে একপ্রকার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে জমি শক্ত করলেও, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বড় মাসুল দিতে হচ্ছে তাঁকে।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাঘব চাড্ডা তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ লক্ষেরও বেশি (১ মিলিয়ন) ফলোয়ার হারিয়েছেন। ১৪.৬ মিলিয়ন থেকে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা রাতারাতি নেমে এসেছে ১৩.৩ মিলিয়নে।

কেন এই গণ-আনফলো? ৩টি বড় কারণ:

১. আদর্শগত সংঘাত ও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’: রাঘব চাড্ডা তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত ছিলেন বিজেপির কট্টর সমালোচক হিসেবে। অতীতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর ঝাঁজালো বক্তব্য শুনে যারা তাঁকে অনুসরণ করতেন, তাঁরা এই ভোলবদলকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। ভক্তদের মতে, তিনি তাঁর আদর্শ বিক্রি করে দিয়েছেন।

২. পোস্ট ডিলিট বিতর্ক: অভিযোগ উঠেছে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঠিক আগেই রাঘব তাঁর প্রোফাইল থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বিজেপির বিরুদ্ধে করা পুরনো সমস্ত বিতর্কিত পোস্ট ও ভিডিও মুছে ফেলেছেন। নেটিজেনদের দাবি, নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে ‘ওয়াশিং মেশিন’ টেকনিক ব্যবহার করছেন তিনি, যা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।

৩. ‘জেনারেশন জেড’-এর মোহভঙ্গ: রাঘবকে তরুণ ভোটাররা (Gen Z) মনে করতেন প্রথাগত রাজনীতির বাইরের একজন আধুনিক ও শিক্ষিত নেতা। কিন্তু হঠাৎ করে সাতজন সাংসদ নিয়ে দলত্যাগ করার ঘটনাকে তাঁর রাজনৈতিক ‘সুবিধাবাদ’ হিসেবেই দেখছেন নতুন প্রজন্মের ভোটাররা। কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ছে ক্ষোভ— অনেকেই লিখছেন, “আপনার মধ্যে আমরা ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীকে দেখতাম, কিন্তু আপনি আমাদের হতাশ করলেন।”

বিজেপির প্রতিক্রিয়া: অবশ্য এই ফলোয়ার কমে যাওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ পদ্ম শিবির। তাদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত ক্যাম্পেইন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাঘব চাড্ডার মতো যোগ্য নেতার আগমনে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী ২০২৭-এর পাঞ্জাব নির্বাচনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy