২০২৬-এর বাংলার বিধানসভা ভোট ঘিরে এবার রণংদেহি মেজাজে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। শুধু রাজনৈতিক নেতা নয়, এবার কমিশনের সরাসরি নিশানায় পুলিশ আধিকারিকরা। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— এলাকা সামলাতে ব্যর্থ হলে বা হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (OC) বা আইসি-কে (IC) এমন শাস্তির মুখে পড়তে হবে যা আগে কেউ দেখেনি।
২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন: কমিশন সূত্রে খবর, কোনও এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এলে পুলিশকে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি দেখা যায় কোনও আধিকারিক জেনেবুঝে দেরি করছেন বা পক্ষপাতিত্ব করছেন, তবে তাঁকে শুধু বদলি নয়, বিভাগীয় তদন্ত ও কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে।
বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ নজর: নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের সাথে বৈঠকে পরিষ্কার জানিয়েছে:
এলাকায় কোনও রকম বিস্ফোরক বা বেআইনি অস্ত্র মজুত থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট থানার ওপর বর্তাবে।
বিস্ফোরক উদ্ধার হলে বা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে আইসি-দের সরাসরি জবাবদিহি করতে হবে।
নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে পুলিশের কপালে জুটবে ‘নজিরবিহীন শাস্তি’।
প্রশাসনিক রদবদল: ইতিমধ্যেই বাংলার বেশ কিছু জেলার পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ আসা মাত্রই এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হচ্ছিল যে, পুলিশি মদতে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কমিশনের এমন ‘ডেডলাইন’ দেওয়া বার্তা আদতে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





