২০২৯ সালের লক্ষ্য নিয়ে বড়সড় চাল চেলেছিল কেন্দ্র, কিন্তু তাতে জল ঢেলে দিল বিরোধী শিবির। লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার যে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ মোদী সরকার সাজিয়েছিল, তা বড় ধাক্কা খেল সংসদের নিম্নকক্ষে। শুক্রবার ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬) প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আটকে গেল।
সংখ্যার লড়াইয়ে হার: সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন বাধ্যতামূলক। শুক্রবার লোকসভায় কী ছিল সেই অংক?
মোট ভোটদানকারী সাংসদ: ৫২৮ জন
প্রয়োজনীয় সমর্থন (২/৩ অংশ): ৩৫২টি ভোট
সরকারের পক্ষে ভোট: ২৯৮টি
বিপক্ষে ভোট: ২৩০টি ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে ৫৪টি ভোট কম পাওয়ায় বিলটি খারিজ হয়ে যায়। এর ফলে কেন্দ্রের পরিকল্পনা আপাতত ঠান্ডা ঘরে চলে গেল।
মোদী-শাহের আবেদন বিফলে: বিলটি পাশ করাতে তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল কেন্দ্র। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল ঘোষণা করেছিলেন যে, বিল পাশ হলে তার সমস্ত কৃতিত্ব তিনি বিরোধীদের দিতে রাজি। আজ ভোটাভুটির ঠিক আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বড় ঘোষণা করেন— তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আসন বিন্যাসের সময় সব রাজ্যে সমান হারে ৫০ শতাংশ আসন বাড়ানো হবে। কিন্তু শাহের এই আশ্বাসেও মন গলেনি রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র।
বিরোধীদের যুক্তি কী? বিরোধী শিবিরের দাবি, তারা নারী সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাসকে জুড়ে দেওয়ার ঘোর বিরোধী। তাদের প্রশ্ন, আসন না বাড়িয়ে কি মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়? বিরোধীদের মতে, ডিলিমিটেশনের আড়ালে আসলে নির্বাচনী মানচিত্র বদলে ফেলার চেষ্টা করছিল সরকার, যা তারা একজোট হয়ে রুখে দিল।
পরবর্তী ধাপ কী? ডিলিমিটেশন বিল আটকে যাওয়ায় ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তৎক্ষণাৎ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হওয়া নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের জন্য সবথেকে বড় সংসদীয় পরাজয়।





