ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মেঘ কাটতেই ভারতের জন্য জোড়া খুশির খবর শোনাল ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এবার রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতের ওপর থেকে সমস্ত বিধিনিষেধ শিথিল করল মার্কিন প্রশাসন। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় জানিয়েছে, ভারতসহ একাধিক দেশ এখন থেকে নির্দ্বিধায় রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কিনতে পারবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই বড়সড় ছাড়ের ঘোষণা করেছে আমেরিকা।
মার্কিন প্রশাসনের নয়া নির্দেশিকা
মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ‘সাধারণ লাইসেন্স’ জারি করছে। এই লাইসেন্সের অধীনে ১৭ এপ্রিল থেকে ১৬ মে পর্যন্ত রাশিয়ার থেকে তেল ও জ্বালানি কেনায় কোনও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে না। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার থেকে সস্তা তেল কেনায় ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ভারতকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বাইডেন প্রশাসন।
৯ শতাংশ কমল তেলের দাম
শুক্রবার ইরানের পক্ষ থেকে রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। এক ধাক্কায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দূর হওয়ায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
জ্বালানি সংকটে স্বস্তির নিঃশ্বাস
এর আগে গত ২০ মার্চ যখন একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তখন ইরান থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে এসেছিল। ভারতও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জ্বালানি মজুত করেছিল। এবার ১৬ মে পর্যন্ত রাশিয়ার সস্তা তেলের দরজা খুলে যাওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার এই ‘ইউ-টার্ন’ আসলে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার এক মরিয়া চেষ্টা।





