টাটা গেছে, কিন্তু সিঙ্গুর কি পেয়েছে? গ্রামের অলিগলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে স্বপ্নভঙ্গের কান্না!

যে মাটির বুকে একদিন আধুনিক ভারতের শ্রেষ্ঠ গাড়ি তৈরির কারখানার স্বপ্ন ডানা মেলেছিল, আজ সেখানে শুধুই নিস্তব্ধতা। চারিদিকে খাঁ খাঁ করছে জমি, যেন শিল্পের এক বিশাল সমাধি। সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরস চলে যাওয়ার পর বছরের পর বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু সেই দগদগে ক্ষত আজও মেটেনি। এক সময়ের আন্দোলনের ভরকেন্দ্র সিঙ্গুর আজ কী ভাবছে? আক্ষরিক অর্থেই কি রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল? সরাসরি গ্রামের অন্দরমহল থেকে সেই বাস্তব চিত্র তুলে ধরলেন শুভঙ্কর দাস ও সৌম্য গঙ্গোপাধ্যায়।

তিল তিল করে গড়া স্বপ্নভঙ্গ
সিঙ্গুরের ধানি জমি থেকে শুরু করে বাজার-হাট, সর্বত্রই আজ এক প্রচ্ছন্ন দীর্ঘশ্বাস। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একটা বড় শিল্প চলে যাওয়ায় আখেরে ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষেরই। যাঁরা আশা করেছিলেন কারখানার গেটে কাজ পাবেন বা দোকান-পাট চালিয়ে সংসার গুছিয়ে নেবেন, তাঁদের আজ মাথায় হাত। তিল তিল করে গড়ে ওঠা শিল্প কাঠামোটি যখন সিঙ্গুর ছাড়ে, তখন কেবল যন্ত্রপাতির কাঠামো যায়নি, সঙ্গে গিয়েছিল রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি।

ক্ষতির খতিয়ান ও আক্ষেপ
অনেকেই মনে করেন, সিঙ্গুরের এই শিল্প-বিমুখতা গোটা রাজ্যের ভাবমূর্তিকে ধাক্কা দিয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গুরবাসীর মনে প্রশ্ন— রাজনীতি জিতল ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষ কি হারল? গ্রামের প্রবীণ থেকে নবীন, প্রায় প্রত্যেকের গলাতেই একই সুর। কৃষিকাজ দিয়ে সেভাবে আর অন্সংস্থান হচ্ছে না, অন্যদিকে শিল্পের জমিও আজ কার্যত পরিত্যক্ত। সিঙ্গুরের এই নিস্তব্ধতা যেন আজ এক গভীর সতর্কবার্তা দিচ্ছে গোটা রাজ্যকে। শিল্পের সমাধি পেরিয়ে কবে আবার নতুন কোনও ভোরের সূর্য উঠবে সিঙ্গুরে, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন অগণিত মানুষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy