লোকসভার অন্দরে ভোটাভুটির চরম নাটকীয়তায় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় সরকার। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বা মহিলা সংরক্ষণ বিলের রূপরেখা বদলে কেন্দ্র যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছিল, তা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় পাশ করা সম্ভব হল না। ২০২৩ সালে যে মহিলা সংরক্ষণ বিলটি প্রায় সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছিল, তাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সংক্রান্ত বিষয় যুক্ত করতেই এই নতুন বিলটি এনেছিল মোদি সরকার। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন না থাকায় থমকে গেল এই প্রক্রিয়া।
কেন পাশ হল না বিল?
সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে গেলে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সাংসদদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন বাধ্যতামূলক। এ দিন লোকসভায় মোট ৫২৮ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন এবং ভোটাভুটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। হিসেব অনুযায়ী, বিলটি পাশ করতে গেলে অন্তত ৩৫২ জন সাংসদের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়:
বিলের সপক্ষে ভোট: ২৯৮টি
বিলের বিপক্ষে ভোট: ২৩০টি
সরকার পক্ষ প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে ৫৪টি ভোট কম পাওয়ায় স্পিকার বিলটি খারিজ করে দেন।
আসন পুনর্বিন্যাস ও বিরোধীদের অবস্থান
এই ১৩১তম সংশোধনীর সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল। সরকার চেয়েছিল আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ সেরে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে। তবে বিরোধীরা শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল, কেন মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ভোটাভুটিতে বিরোধী ঐক্যের জেরে আপাতত এই সংশোধনী আইন হওয়ার পথ রুদ্ধ হল। ফলে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার সময়সীমা নিয়ে ফের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।





