বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। পয়লা বৈশাখের রেশ কাটতে না কাটতেই দুয়ারে কড়া নাড়ছে অক্ষয় তৃতীয়া। আগামী ১৯ এপ্রিল, রবিবার পালিত হবে এই মহাপুণ্য তিথি। সনাতন ধর্মে এই দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যবসায়ীদের জন্য যেমন এটি নতুন হালখাতার দিন, তেমনই সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘অক্ষয়’ পুণ্য লাভের সেরা সময়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই বছর অক্ষয় তৃতীয়ায় এমন কিছু বিরল যোগ তৈরি হচ্ছে যা গত কয়েক দশকে দেখা যায়নি।
অক্ষয় তৃতীয়ার বিশেষ মাহাত্ম্য
‘অক্ষয়’ শব্দের অর্থ হল যা কখনও ক্ষয় হয় না। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে কোনও শুভ কাজ শুরু করলে তার ফল চিরস্থায়ী হয়। এই দিনেই ধনদেবতা কুবেরের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়েছিলেন মহাদেব। ফলে ধন-সম্পদ বৃদ্ধির জন্য এই দিনটি শ্রেষ্ঠ। এ বছর এই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য উভয়ই নিজ নিজ উচ্চ রাশিতে অবস্থান করবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গজকেশরী যোগ, মালব্য যোগ এবং অক্ষয় যোগ। এই ত্র্যহস্পর্শে দিনটির গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
কী করবেন এই দিনে? (জ্যোতিষ পরামর্শ)
বিখ্যাত জ্যোতিষী রাহুল দে-র মতে, এই দিনটি ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কিছু বিশেষ টোটকার কথা জানিয়েছেন:
পুজো: মা লক্ষ্মী ও গণেশের পাশাপাশি এদিন অবশ্যই ভগবান বিষ্ণুর পুজো করুন।
স্নান ও পরিচ্ছন্নতা: সকালে গঙ্গাস্নান করতে পারলে খুব ভালো। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে প্রবেশদ্বারে আমপাতার মালা ঝোলান।
শ্রী প্রতিষ্ঠা: ব্যবসায়ীরা এই দিন নিজের প্রতিষ্ঠানে ‘শ্রী’ বা লক্ষ্মী প্রতিমা স্থাপন করতে পারেন।
কেনাকাটা: সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা বা রুপোর কোনও জিনিস কেনা অত্যন্ত শুভ। মনে করা হয়, এতে ঘরে অক্ষয় সমৃদ্ধি আসে।
দান: অক্ষয় ফল পেতে দুস্থ মানুষকে অন্ন বা বস্ত্র দান করুন।
প্রদীপ: সন্ধ্যাবেলা বাড়ির প্রধান দরজায় ঘি বা তেলের প্রদীপ জ্বালান।
জ্যোতিষীরা জানাচ্ছেন, গ্রহের বিশেষ অবস্থানের কারণে এই বছর বহু রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে বড় ধরনের উন্নতির যোগ রয়েছে। তাই ভক্তিভরে নিয়ম পালন করলে আর্থিক সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি মনে শান্তি আসবে।





