আমরা নিয়মিত দাঁত মাজলেও অনেক সময় দাঁতের কোণে বা উপরে একটি হলদেটে আঠালো স্তর জমে যায়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্লাক’ (Plaque)। এই প্লাকই পরে শক্ত হয়ে ‘টারটার’-এ পরিণত হয়, যা মাড়ির রোগ এবং মুখে দুর্গন্ধের প্রধান কারণ। দামি ট্রিটমেন্ট বা স্কেলিং করার আগে আপনি চাইলে ঘরে বসেই কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে এই জেদি প্লাক থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
দাঁতের প্লাক দূর করার ৫টি সহজ ও কার্যকরী উপায় জেনে নিন:
১. বেকিং সোডার ম্যাজিক
দাঁত সাদা করতে বেকিং সোডা অতুলনীয়। এটি একটি প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে যা দাঁতের উপরের হলুদ স্তর ঘষে তুলে দেয়। সামান্য বেকিং সোডার সাথে এক চিমটি নুন মিশিয়ে ব্রাশের সাহায্যে দাঁতে ২ মিনিট ঘষুন। সপ্তাহে ১-২ দিনের বেশি এটি করবেন না।
২. নারকেল তেল দিয়ে ‘অয়েল পুলিং’
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের এই প্রাচীন পদ্ধতিটি প্লাক দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। এক চামচ খাঁটি নারকেল তেল মুখে নিয়ে ১০-১৫ মিনিট কুলকুচি করে ফেলে দিন। এটি মুখ গহ্বরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং দাঁতকে উজ্জ্বল রাখে।
৩. কমলার খোসার ব্যবহার
কমলার খোসায় থাকা ভিটামিন সি এবং লিমোনিন (Limonene) ব্যাকটেরিয়া দূর করতে এবং দাঁত সাদা করতে সাহায্য করে। কমলার খোসার ভেতরের সাদা অংশ সরাসরি দাঁতে ১-২ মিনিট ঘষুন এবং কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।
৪. অ্যালোভেরা এবং গ্লিসারিন স্কার্ব
অ্যালোভেরা জেলের সাথে সামান্য বেকিং সোডা ও লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি দিয়ে দাঁত মাঝলে প্লাক দ্রুত আলগা হয়ে যায় এবং মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
৫. পেয়ারা পাতা বা তুলসী পাতার রস
পেয়ারা পাতা বা তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে দাঁতের এনামেল সুরক্ষিত থাকে এবং প্লাক জমার প্রবণতা কমে। এই পাতাগুলোতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান দাঁতের জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
ভবিষ্যতে প্লাক জমা রোধ করতে:
প্রতিদিন অন্তত দু’বার ব্রাশ করুন।
ফ্লসিং (Flossing) করার অভ্যাস গড়ে তুলুন যাতে দাঁতের ফাঁকের ময়লা পরিষ্কার হয়।
বেশি মিষ্টি বা আঠালো খাবার খাওয়ার পর অবশ্যই জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।





