RJD–র ভরাডুবিতে নাম এল রামিজ নেমত খানের! কে এই রহস্যময় ব্যক্তি, যার কথায় পরিবার ছাড়লেন লালু-কন্যা?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি (RJD)-র ভরাডুবির পর দিনই রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়ে পরিবারকেও বর্জনের ঘোষণা করেছিলেন লালুপ্রসাদ যাদবের কন্যা রোহিনী আচার্য। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, আরজেডি সাংসদ সঞ্জয় যাদব এবং আরেক নতুন মুখ রামিজ নেমত খান তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। এই প্রথমবার প্রকাশ্যে আসা নামটি এখন বিহারের রাজনীতি এবং মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, তেজস্বী যাদবের দীর্ঘদিনের বন্ধু রামিজ নেমত খান তাঁর ঘনিষ্ঠ ‘কোর টিম’-এরই সদস্য। ক্রিকেট মাঠে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে রাজনীতির অন্দরে গড়িয়েছে। তেজস্বীর প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া টিম—সব কিছুর ওপরই নজর রাখেন রামিজ।

কে এই রামিজ নেমত খান?

রামিজ নেমত খানের জন্ম ১৯৮৬ সালের নভেম্বর মাসে। তাঁর বাবা নেমাতুল্লাহ খান জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার অধ্যাপক। রামিজ দিল্লি পাবলিক স্কুল (মতিউর রোড) থেকে স্কুলজীবন শেষ করেন এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া থেকে বিএ ও এমবিএ করেন।

  • রাজনৈতিক যোগসূত্র: রামিজ উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। তাঁর শ্বশুর হলেন প্রাক্তন সাংসদ রিজওয়ান জাহির। রিজওয়ান জাহির শ্রাবস্তী (আগের বলরামপুর) লোকসভা কেন্দ্র থেকে দু’বার সাংসদ হয়েছেন—কখনও সমাজবাদী পার্টি, কখনও বহুজন সমাজ পার্টির টিকিটে। একসময় তিনি উত্তরপ্রদেশের কনিষ্ঠতম বিধায়কও ছিলেন। রামিজের স্ত্রী জেবা রিজওয়ানও দু’বার নির্বাচন লড়েছেন তুলসীপুর কেন্দ্রে, কিন্তু জিততে পারেননি।

  • তেজস্বীর সঙ্গে সম্পর্ক: রামিজ ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার ছিলেন, দিল্লি ও ঝাড়খণ্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। ২০০৮-০৯ সালে তিনি ঝাড়খণ্ড আন্ডার–২২ দলের অধিনায়ক ছিলেন, এবং তখনই তাঁর সঙ্গে তেজস্বী যাদবের বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হয়।

  • আরজেডিতে প্রবেশ: ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আরজেডি-তে যোগ দেন রামিজ। তারপর থেকেই তিনি তেজস্বীর নিত্যসঙ্গী—রাজনৈতিক কৌশল, প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান।

বিতর্ক ও মামলার ইতিহাস:

রামিজ নেমত খানের অতীত বিতর্ক আর মামলায় ঘেরা।

  • হামলার অভিযোগ: ২০২১ সালে তুলসীপুর জেলা পরিষদ ভোট চলাকালীন কংগ্রেস নেতা দীবঙ্কর সিংহের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

  • খুনের ষড়যন্ত্র: ২০২২ সালে তুলসীপুর নগর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সভাপতি ফিরোজ পাপ্পু খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে রামিজ, তাঁর স্ত্রী, শ্বশুর রিজওয়ান জাহির-সহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

  • মামলার সংখ্যা: তাঁর বিরুদ্ধে বলরামপুরে ৯টি এবং কৌশাম্বীতে ২টি সহ একাধিক মামলা চলছে। একাধিক মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন, কিছু এখনও বিচারাধীন।

  • আরও হত্যা: ২০২৩ সালে প্রতাপগড়ের ঠিকাদার শাকিল খানের হত্যার অভিযোগ ওঠে। কুশীনগরের রেললাইনের ধারে শাকিলের দেহ উদ্ধার হয়, এবং নিহতের স্ত্রী এই মামলাতেও রামিজকে অভিযুক্ত করেন।

  • সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: একই বছরে উত্তরপ্রদেশ সরকার রামিজের নামে কেনা প্রায় ৪.৭৫ কোটি টাকার জমি বাজেয়াপ্ত করে।

  • গ্রেফতার: জুলাই ২০২৪-এ তিনি গ্যাংস্টার অ্যাক্টে গ্রেফতার হন, যদিও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সেখানেও জামিন পান।

এরপর রামিজ ও তাঁর স্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে, সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেয় যে, তাঁদের গ্রেফতার বা নতুন মামলা শুরু করার আগে স্থানীয় আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক। তারপর থেকেই এই দম্পতি একে একে বহু মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন, এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলাও হয়নি।

রোহিণীর অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসা রামিজ নেমত খান বিতর্কিত হলেও তেজস্বীর অন্দরমহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ। তাঁর অতীতের মামলার ইতিহাস যেমন প্রশ্ন তুলছে, তেমনই তেজস্বীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বকেও আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy