শপথ নেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্বমহিমায় ধরা দিলেন রাজ্যের নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। দফতরে পা রেখেই স্পষ্ট করে দিলেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। মঙ্গলবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেই আধিকারিক ও কর্মীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে খাদ্য দফতরকে সম্পূর্ণ ‘দুর্নীতিমুক্ত’ করতে হবে।
রাজ্যের সাধারণ মানুষের রেশন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে অতীতে একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে মরিয়া নতুন মন্ত্রী। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “সাধারণ মানুষের হকের খাবার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তাদের দিন শেষ। আমি সাত দিনের সময়সীমা দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে যাবতীয় অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। মানুষের ঘরে ঘরে স্বচ্ছভাবে পরিষেবা পৌঁছানোই আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, খাদ্য দফতরে অতীতে নিয়োগ থেকে শুরু করে রেশন বণ্টন পর্যন্ত যে সমস্ত বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, সেই ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ নতুন মন্ত্রীর কাছে। মন্ত্রীর এই কড়া মনোভাব দেখে দফতরে ইতিধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এবার হয়তো বড় মাপের প্রশাসনিক রদবদল বা শুদ্ধিকরণ অভিযান শুরু হতে চলেছে।
মন্ত্রীর এই আল্টিমেটামকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষও। তবে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিনের শিকড় গেড়ে থাকা দুর্নীতি কি মাত্র সাত দিনেই উপড়ে ফেলা সম্ভব? না কি এটি কেবলই প্রাথমিক চমক? উত্তর পেতে আপাতত মন্ত্রীর দেওয়া ‘ডেডলাইন’-এর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।





