খেলনা মানেই যে কেবল ইলেকট্রনিক্সের দাপট নয়, তা প্রমাণ করে দিল হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী আন্দুল রাস মেলা। মেলায় ছোটদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে পুরনো দিনের সেই জনপ্রিয় খেলনা— সরাঢাক বা টুনটুন গাড়ি। এই খেলনাটির চাহিদা আন্দুল রাসে এতটাই তুঙ্গে যে, ভিন জেলা থেকেও বিক্রেতারা বিপুল সম্ভার নিয়ে ভিড় জমান হাওড়ায়।
টুনটুন গাড়ির আকর্ষণ:
সরাঢাক বা টুনটুন গাড়ি হলো শৈশবের এক দারুণ আকর্ষণ। এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত সহজ, যা প্রবীণদের মনে করিয়ে দেয় হারানো শৈশব।
- উপাদান: মাটির চাকা, পাটের দড়ি এবং বাঁশের কাঠির দু’চাকার গাড়ির উপর মাটির সরার উপর চামড়া বা প্লাস্টিকের পর্দা লাগানো ঢাক।
- কার্যকারিতা: সামনে থেকে দড়িতে টান মারলেই চাকা ঘোরে, আর চাকার সঙ্গে যুক্ত কাঠি ঢাকের উপর পড়ে সৃষ্টি হয় মন মুগ্ধ করা ঢাকের শব্দ।
বিক্রিবাটা ও ব্যবসায়ীদের লাভ:
আন্দুল রাস মেলায় টুনটুন গাড়ির বিক্রিবাটা রীতিমতো তাক লাগানোর মতো। বিক্রেতাদের দাবি:
- বিক্রির পরিমাণ: মেলার ক’দিনে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার পিস খেলনা বিক্রি হয়।
- আয়ের অঙ্ক: মাত্র ২০-২২ দিনে মোট ১.৫ থেকে ২ লক্ষ টাকার খেলনা বিক্রি হয়।
- বিক্রেতাদের উপস্থিতি: দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পাঁচ থেকে সাতজন বিক্রেতা প্রতি বছর মেলায় আসেন। প্রত্যেক বিক্রেতা ১-২ হাজার পর্যন্ত খেলনা নিয়ে আসেন।
- দাম ও লাভ: এই খেলনার দাম মাত্র ৩০ টাকা প্রতি পিস, যা বাজারের তুলনায় অনেকটাই কম। যদিও কাঁচামালের দাম (মাটির চাকা, সরা, চামড়া/প্লাস্টিক, পাট দড়ি) এবং কম দামের কারণে বিক্রেতারা খুব বেশি লাভ পান না, তবুও এই বিপুল চাহিদা তাঁদের মন ভরিয়ে দেয়।
বিক্রেতারা জানান, হাওড়া জেলার রথ ও চরকের মেলায়ও এই খেলনা দেখা যায়, তবে আন্দুল রাস মেলাতেই এর চাহিদা সবথেকে বেশি। যখন বাংলার পুরনো দিনের খেলনার চাহিদা ক্রমশ কমছে, তখন এই বিপুল বিক্রি ঐতিহ্যবাহী খেলনার গুরুত্বকে আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল।