হাওড়াবাসীর ৮ বছরের অপেক্ষার অবসান! পুরভোট নিয়ে নয়া সরকারের বড় ঘোষণা, কবে হবে নির্বাচন?

দীর্ঘ ৮ বছর পর অবশেষে জট কাটতে চলেছে হাওড়া পুরনিগমের (HMC)। ২০১৫ সালে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল এই শিল্প শহরে। তারপর থেকেই নানা প্রশাসনিক জটিলতা, আইনি লড়াই এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসের জেরে থমকে ছিল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তবে এবার রাজ্যের নয়া সরকার ক্ষমতা দখলের পরই হাওড়ার বঞ্চনা মেটাতে কোমর বেঁধে নেমেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

৮ বছরের দীর্ঘ বঞ্চনা ও ক্ষোভ ২০১৮ সাল থেকে হাওড়া পুরনিগম নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে। প্রশাসক বসিয়ে কাজ চললেও, নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল চরমে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করেছিল বিরোধীরাও। এবার সেই জনক্ষোভ প্রশমনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

নয়া সরকারের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ সম্প্রতি মহাকরণে বা নবান্নে হওয়া একটি বিশেষ বৈঠকে হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর:

  • বালি পুরসভা ইস্যু: হাওড়া থেকে বালিকে আলাদা করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত আইনিভাবে সম্পন্ন করে ভোটের পথ পরিষ্কার করা হবে।

  • সীমানা নির্ধারণ: সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নির্বাচন কমিশনকে চিঠি: খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের তরফে নির্বাচন কমিশনকে ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে চিঠি দেওয়া হতে পারে।

কবে হতে পারে ভোট? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্য এখন জয়ের মেজাজে। এই অনুকূল পরিস্থিতিতেই সম্ভবত বর্ষার ঠিক আগে অথবা পুজোর আগে হাওড়ার ভোট মিটিয়ে ফেলতে চায় সরকার। প্রশাসনের এই তৎপরতায় আশায় বুক বাঁধছেন সাধারণ হাওড়াবাসী। তাঁরা চাইছেন, দীর্ঘ ৮ বছর পর তাঁদের ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলররা এসে ফের শহরের হাল ধরুক।

হাওড়া পুরভোট নিয়ে রাজ্য সরকারের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কি পারবে শহরের চেহারা বদলাতে? নাকি ফের কোনো আইনি জটিলতায় থমকে যাবে নির্বাচন? আপনার এলাকায় পুর পরিষেবা কেমন? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান।

সবরকম লেটেস্ট নিউজ এবং ব্রেকিং খবরের জন্য চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy