বড় পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দান—অভিনেতা বিজয়ের (Thalapathy Vijay) জীবনটাই যেন এক রোমাঞ্চকর সিনেমা। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন জয়ের পর এবার নিজের শাসনব্যবস্থায় এক চাঞ্চল্যকর নিয়োগ দিয়ে ফের চর্চায় উঠে এলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। নিজের ‘তামিলজাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) দলকে ক্ষমতায় আনার নেপথ্যে থাকা অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র রাজন পণ্ডিতকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে নিয়োগ করলেন তিনি।
কে এই রাজন পণ্ডিত? রাজন পণ্ডিত পেশায় একজন নামী জ্যোতিষী এবং সংখ্যাতত্ত্ববিদ। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, যখন কেউই বিজয়ের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল না, তখন এই রাজন পণ্ডিতই বুক ঠুকে বলেছিলেন—তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন থালাপথি বিজয়। কেবল তা-ই নয়, ভোটের ফলে তাঁর দল কতগুলো আসন পাবে, তার নিখুঁত হিসেবও নাকি আগেই দিয়েছিলেন এই জ্যোতিষী।
জ্যোতিষী থেকে সচিবালয়ে: বড় দায়িত্ব সম্প্রতি এক সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, রাজন পণ্ডিতকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (OSD-Political Affairs) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। মূলত মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়াবলি এবং কৌশল নির্ধারণের কাজ করবেন তিনি। একজন পেশাদার আমলা বা রাজনীতিকের বদলে একজন জ্যোতিষীকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় স্বাভাবিকভাবেই ভ্রু কুঁচকেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেন এই নিয়োগ? ১. ব্যক্তিগত আস্থা: বিজয় মনে করেন, রাজন পণ্ডিতের পরামর্শ এবং সঠিক মুহূর্তের সিদ্ধান্তই তাঁকে নির্বাচনে বড় জয় এনে দিয়েছে। ২. কৌশল নির্ধারণ: রাজন পণ্ডিত কেবল জ্যোতিষচর্চা নয়, বরং জনমতের নাড়ি টিপে বুঝতেও দক্ষ বলে দাবি করেন বিজয়ের ঘনিষ্ঠরা। ৩. বিরোধীদের কটাক্ষ: এই নিয়োগ সামনে আসতেই বিরোধীরা সরব হয়েছে। ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK) সমর্থকদের দাবি, “যুক্তিবাদ এবং বিজ্ঞানমনস্কতার এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী যদি অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে প্রশাসন চালান, তবে তা রাজ্যের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।”
কী হবে আগামী দিনে? বিজয় অবশ্য সমালোচনায় কান দিচ্ছেন না। তাঁর মতে, রাজন পণ্ডিতের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং দূরদর্শিতা আগামী দিনে তামিলনাড়ুর উন্নয়নে সাহায্য করবে। তবে রাজপ্রাসাদের অন্দরের খবর, এখন থেকে যেকোনো বড় প্রকল্পের শিলান্যাস বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরের নির্ঘণ্ট নাকি এই ‘রাজন পণ্ডিত’-এর ছক মেনেই তৈরি হবে।
জ্যোতিষীর কথায় কি তবে চলবে দক্ষিণ ভারতের অন্যতম শক্তিশালী রাজ্যটি? নাকি বিজয়ের এই পদক্ষেপের পেছনে লুকানো আছে অন্য কোনো গূঢ় রাজনীতি? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। আপনার কী মনে হয়? বিজয়ের এই সিদ্ধান্ত কি সঠিক? আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানান।





