নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের নাম এসআইআর (Special Initiative Registration) তালিকায় তোলা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা (PIL) খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট।
সোমবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, এই ধরনের বিষয় জনস্বার্থ মামলায় নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের মূল কারণ
আদালত এই মামলা খারিজের পেছনে দুটি মূল কারণ দেখিয়েছে:
- নিষ্পত্তির অসাধ্যতা: বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “আইন আপনাদের আগেই সুরক্ষা দিচ্ছে। একটি জনস্বার্থ মামলায় এভাবে এক-একজনের বিষয় বিবেচনা করা সম্ভব নয়।” কেন্দ্রের কাছে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন জমা থাকা সত্ত্বেও, আদালতের পক্ষে একটি PIL-এর ভিত্তিতে একসঙ্গে এতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়।
- প্রমাণপত্রের অভাব: আবেদনকারীরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছিলেন কি না, বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাঁদের নাগরিকত্বের আবেদন বাতিল করেছে কি না, সেই সংক্রান্ত কোনও প্রমাণপত্র দেওয়া হয়নি।
আবেদনকারীর আইনজীবীর যুক্তি
মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী মৈনাক বসু যুক্তি দেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের আইন মেনে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন যে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নাগরিকরা, তাঁদের শুধু পাসপোর্ট নেই বলেই ‘বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’ বলা যায় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের এনুমারেশন ফর্মে CAA আবেদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট বিকল্প নেই, তাই এই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
কেন্দ্রের আশ্বাস ও আদালতের নির্দেশ
কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী আদালতকে জানান, দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আশ্বাস দিয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের আবেদনকারীদের বিষয়টি ১০ দিনের মধ্যে বিবেচনা করা হবে।
মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, বর্তমানে যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাতে যদি কোনও ভোটারের নাম বাদ যায়, তবে তাঁরা ভোটদানের অধিকার হারাতে পারেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করে জানান, “কেন্দ্রের আইন অনুযায়ী আপনি (আবেদনকারী) সুরক্ষিত। ফলে এই মুহূর্তে আপনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সে ব্যাপারে আবেদন জানাতে পারেন।” এই পর্যবেক্ষণের পরই ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার জানান, নাগরিকত্ব প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন।