রায়না-ধাওয়ানের ১১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত! বেটিং অ্যাপের জালে প্রাক্তন ক্রিকেটাররা, ইডি-র চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ

১,০০০ কোটি টাকার বেটিং অ্যাপ সংক্রান্ত এক চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না ও শিখর ধাওয়ানের বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ২০০২ সালের অর্থপাচার রোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী, এই দুই তারকার মোট ১১.১৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইডি সূত্রে খবর, বেটিং প্ল্যাটফর্ম 1xBet এবং তার সহযোগী প্ল্যাটফর্ম 1xBat, 1xBat Sporting Lines-এর বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রায়নার নামে থাকা ৬.৬৪ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ এবং ধাওয়ানের ৪.৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
জেনেশুনেই বেআইনি বেটিং চক্রে যুক্ত: ইডি-র প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রায়না ও ধাওয়ান সব জেনেশুনেই বিদেশি বেটিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন এবং অ্যাপগুলির প্রচার শুরু করেন। বেআইনি বেটিং প্ল্যাটফর্মের প্রচারে যুক্ত থাকার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে PMLA আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের জালে আরও তারকা: এই বেটিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও বহু হাই-প্রোফাইল তারকা ইডি-র তদন্তের আওতায় এসেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিং, রবিন উথাপ্পা এবং অভিনেতা সোনু সুদ, ঊর্বশী রাউতেলা, ও টলিউড তারকা মিমি চক্রবর্তী, অঙ্কুশ হাজরা। তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
বেআইনি উপায়ে অর্থ লেনদেন: ইডি-র তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বেআইনি বেটিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকা তারকারা যে অর্থ পেয়েছেন, তা সরাসরি আসেনি। এই অর্থ প্রথমে একাধিক বিদেশি মধ্যস্থতাকারীর কাছে যেত, এরপর তা ভারতীয় অ্যাকাউন্টে আসত। পুরো লেনদেন প্রক্রিয়াটি বেআইনিভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল এবং এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকাকেই বৈধ বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
ভারতীয় ক্রিকেট দলের দুই প্রাক্তন তারকার বিরুদ্ধে ইডি-র এই কঠোর পদক্ষেপ গোটা দেশে এবং ক্রীড়া মহলে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।