মোদীর হাতেই নিয়ন্ত্রিত নীতীশ কুমার! বিহারে প্রথম দফার ভোটের দিনেই রাহুল গান্ধীর চরম হুঁশিয়ারি, ‘ভোট চুরি হতে দেব না’!

বিহারে প্রথম দফার ১২১টি আসনে যখন ভোটগ্রহণ চলছে, ঠিক সেই দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে “ভোটার জালিয়াতির” নতুন অভিযোগ তোলার একদিন পরই তিনি বিহারে এসে একই ইস্যুতে সরব হলেন।
ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ: পূর্ণিয়ার কসবা আসনের কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “ওরা যেখানেই নির্বাচনে লড়ছে, ভোট চুরি করে জিতছে… গতকাল আমরা গোটা বিশ্বকে দেখিয়েছি যে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন হরিয়ানার নির্বাচন চুরি করেছে, আর বিহারের গত নির্বাচনও ওরা চুরি করেছিল।”
গতকাল অর্থাৎ বুধবার অনুষ্ঠিত ‘এইচ ফাইলস’ নামে এক সাংবাদিক সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন। সেখানে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন, হরিয়ানায় প্রায় ২৫ লক্ষ “ভুয়ো ভোটার” রয়েছে, যা প্রতি আটজন ভোটারের মধ্যে একজন ভুয়ো হওয়ার সমান।
ভোটারদের কাছে আবেদন ও হুঁশিয়ারি: ভোট চুরির অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধী এবার সরাসরি ভোটারদের কাছে আবেদন জানান। তিনি বলেন, “এবার ভোট চুরি হতে দেওয়া যাবে না। (প্রধানমন্ত্রী) নরেন্দ্র মোদী এবং (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) অমিত শাহ, নির্বাচন কমিশন, সবাই ভোট চুরিতে জড়িত। সংবিধান রক্ষা করা আপনাদের (ভোটারদের) দায়িত্ব। আমাদের ভোট চুরি হতে দেওয়া চলবে না।”
নীতীশ কুমার মোদীর হাতে নিয়ন্ত্রিত: রাহুল গান্ধী বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, নীতীশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারা “দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত” হচ্ছেন।
রাহুল বলেন, “নীতীশ কুমার কিছুই করতে পারবেন না কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বারা দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত… নীতীশ কুমার সরকার চালাচ্ছেন না; বিহার ও দিল্লির আমলারা, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরকার চালাচ্ছেন।”
তিনি বিহারে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই কাজ মোদী ও নীতীশ কুমারের পক্ষে সম্ভব নয়।
২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে NDA ১২৫টি আসন পেয়েছিল, যেখানে বিরোধীরা পেয়েছিল ১১০টি আসন। সেই নির্বাচনেই বিজেপি-জেডিইউ জোট সামান্য ব্যবধানে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। রাহুল গান্ধীর এবারের এই ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করল।