ইউপি-তে শুরু ‘সর্দার @১৫০ ইউনিটি মার্চ’! লোকসভা-বিধানসভা ধরে ৮-১০ কিমি পদযাত্রার নির্দেশ দিলেন যোগী

লৌহপুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গোটা দেশের সঙ্গে উত্তর প্রদেশেও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রবিবার লখনউতে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী জানান, সর্দার প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে ‘সর্দার @১৫০ ইউনিটি মার্চ’ অভিযান চালানো হবে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিটি লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা বা ‘ইউনিটি মার্চ’ অনুষ্ঠিত হবে।

৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অভিযান:

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযানটি ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

একতার প্রতীক: যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “সর্দার প্যাটেল অখন্ড ভারতের স্থপতি ছিলেন, যিনি শত শত দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে ভারতকে শক্তিশালী করেছিলেন। আজ ভারত যে রূপে আমরা দেখছি, তা প্যাটেলের দূরদর্শিতা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির ফল।”

‘একতা দিবস’: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ২০১৪ সাল থেকে সর্দার প্যাটেলের জন্মজয়ন্তীকে ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’ (National Unity Day) হিসেবে পালন করা হচ্ছে। গুজরাটের কেভাডিয়ায় নির্মিত ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ ভারতের একতা ও শক্তির প্রতীক।

কর্মসূচি ও যুবকদের অংশগ্রহণ:

যোগীর ঘোষণা অনুযায়ী, জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘রান ফর ইউনিটি’, ‘স্বদেশী মেলা’ এবং ‘ভোকেল ফর লোকাল’-এর মতো একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। প্রতিটি জেলায় রচনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পথনাটিকা, যোগ শিবির ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানও চালানো হবে।

যুবকদের জন্য কেন্দ্র সরকারের ‘মাই ভারত অভিযান’-এর অধীনে একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এই অভিযানে যুক্ত হতে পারবে যুব সমাজ। রাজ্যের প্রতিটি জেলার পাঁচজন তরুণ সর্দার প্যাটেলের জন্মভূমি থেকে কেভাডিয়া পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটারের বিশেষ যাত্রায় অংশ নেবেন।

মোট ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্র এবং ৮০টি লোকসভা কেন্দ্রে একতা, দেশপ্রেম এবং আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনাকে প্রসারিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচিগুলি আয়োজন করা হবে। ‘স্বদেশী মেলা’-গুলিতে স্থানীয় পণ্যগুলির ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং প্রযুক্তির সংযোগের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

যোগী সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই অভিযান শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি জাতীয় সংহতি এবং স্বনির্ভরতার দিকে উত্তর প্রদেশের অঙ্গীকারকে আরও মজবুত করবে।