দুর্গাপুর কাণ্ড নিয়ে বক্তব্য ‘বিকৃত’ করার অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমকে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দুর্গাপুরের ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ-কাণ্ড নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁর দেওয়া বক্তব্যকে ‘ডিসটর্ট’ (বিকৃত) করার অভিযোগ তুললেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার আলিপুরদুয়ারে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে একাংশ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন এবং কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

বিকৃতির অভিযোগ ও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ:
উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুর কাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন: “বিভিন্ন রাজ্য থেকে যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা পড়তে আসেন, তাঁদেরও আমি অনুরোধ করব, রাত্রিবেলা না-বেরোতে। পুলিশ তো আর জানে না, কে-কখন বেরিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ তো বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে বসে থাকবে না।” পাশাপাশি, তিনি হস্টেল কর্তৃপক্ষকেও আবাসিক মেয়েদের বাইরে বেরোনো নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেন।

এই মন্তব্যের পরেই বিরোধী দলগুলি মমতার বক্তব্যকে ‘তালিবানি ফতোয়া’র সঙ্গে তুলনা করে তীব্র বিতর্ক শুরু করে। আলিপুরদুয়ারে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী সেই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দমদম এয়ারপোর্টে আমার কথা ডিসটর্ট করা হয়েছে। আপনাদের আমি একটা কথা বলতে চাই, আপনারা আমাকে প্রশ্ন করবেন, আর আমি তার উত্তর দেব। তারপর আপনারা আমার কথা ডিসটর্ট করবেন। এসব রাজনীতি আমার সঙ্গে করবেন না।”

বন্যা মোকাবিলা ও পুরস্কার বিতরণ:
বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগের পরই মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকের প্রসঙ্গে ফিরে যান। তিনি জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় আগাম সতর্ক করা এবং উদ্ধার কাজে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় তিনি আজ প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আট জনকে পুরস্কৃত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জেলাশাসকরা সার্ভে করে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট মুখ্যসচিবকে দেবেন।

বন্যা দুর্গত এলাকায় সফরসূচি:
এদিন প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুভাষিনী চা-বাগানে যান। সেখানে তিনি বন্যা কবলিত চা-শ্রমিক এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে দেখা করে উপহার দেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রীর সোমবারের সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি নাগরাকাটায় বন্যা কবলিত এলাকা এবং তার পর দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের ধসে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।