পাঁচ মাস কেটেছে রায় দিতে! ওয়াকফ সম্পত্তি নিবন্ধনের সময় বাড়াতে রাজি শীর্ষ আদালত, আপত্তি সলিসিটর জেনারেলের

ওয়াকফ সম্পত্তিগুলির জিও-ট্যাগিং করে ডিজিটাল তালিকা তৈরির কেন্দ্রীয় পোর্টাল ‘উমিদ’ (UMMEED)-এ সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির বাধ্যতামূলক নথিভুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য একটি আবেদন শুনতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ব্যবহারকারী-সৃষ্ট ওয়াকফ (waqf-by-users) সম্পত্তিগুলিও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসির আইনজীবী নিজাম পাশা এই আবেদনটি তালিকাভুক্ত করার জন্য আর্জি জানান।
কেন সময় বাড়ানোর প্রয়োজন?
আইনজীবী নিজাম পাশা আদালতকে জানান, ওয়াকফ আইন সংশোধনীর মাধ্যমে নথিভুক্তির জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালতের রায় বের হতে পাঁচ মাসই কেটে গিয়েছে। ফলে তাঁদের হাতে এখন মাত্র এক মাস বাকি। এই পরিস্থিতিতে সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।
যদিও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আর্জির উল্লেখ নিয়ে আপত্তি জানান এবং বলেন যে এই বিষয়ে কেন্দ্রকে অবহিত করা উচিত। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “তালিকাভুক্ত হতে দিন। তালিকাভুক্ত করার অর্থই মঞ্জুর করা নয়।” জানা গেছে, আগামী ১৪ অক্টোবর এই মামলার শুনানি হতে পারে।
আদালতের আগের সিদ্ধান্ত
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে শীর্ষ আদালত ওয়াকফ আইন, ২০২৫-এর কয়েকটি মূল ধারার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তার মধ্যে একটি ধারা ছিল যে, শুধুমাত্র গত পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্ম পালনকারীরাই ওয়াকফ গঠন করতে পারবেন।
পাশাপাশি, আদালত কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তকেও মান্যতা দেয় যেখানে নতুন সংশোধিত ওয়াকফ আইন থেকে ‘ব্যবহারকারী-সৃষ্ট ওয়াকফ’ সংক্রান্ত ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। শীর্ষ আদালত জানায়, আপাতদৃষ্টিতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ খেয়ালখুশিমতো নয়। সরকারের দ্বারা ওয়াকফ জমি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাকেও আদালত “অমূলক” বলে জানায়।
উল্লেখ্য, সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির ডিজিটাল তালিকা তৈরির উদ্দেশ্যে কেন্দ্র গত ৬ জুন ‘ইউনিফাইড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৯৫’ (উমিদ) নামে কেন্দ্রীয় পোর্টালটি চালু করেছিল।