মায়ের প্রেমিকের শিরশ্ছেদ! ১৯ বছরের যুবক রক্তমাখা ছুরি হাতে বসে, গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত পুলিশ

এক বীভৎস ও রোমহর্ষক খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত পুলিশ। প্রেমিকের গলা কেটে শিরশ্ছেদ করার পর তাঁর দেহের পাশে নির্বিকারভাবে বসেছিল ১৯ বছরের এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে এক বিদেশি শহরে, যা এক লহমায় স্থানীয় সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে।
জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির বয়স ছিল প্রায় ৪৫ বছর। যুবকের মায়ের সঙ্গে তাঁর ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। ‘মিরর’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন তাঁরা দেখতে পান মাটিতে পড়ে রয়েছে মৃতদেহটি, যার মাথা ধড় থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আর সেই বীভৎস দৃশ্যের পাশেই রক্তমাখা ছুরি হাতে বসে আছে ওই ১৯ বছরের যুবক।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, যুবকটি প্রথমে মৃত ব্যক্তির ঘাড়ে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে এবং তারপরে তাঁর মাথা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে নিহতের বান্ধবীর ছেলে।
খুনের পর অভিযুক্ত যুবকটি তার ছোট বোনকে জানায় যে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে সে ‘কিছু একটা খারাপ কাজ’ করেছে। মেয়েটি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রক্তের দাগ দেখতে পায়। এর পরেই সে তার দাদাকে অনুসরণ করে বাথরুমে যায়, যেখানে সে দেখতে পায় লোকটির মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। নিহতের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ৪৭ বছর বয়সী লুই অরটিজ, পুলিশকে জানিয়েছেন যে যুবকটি “খুব মিষ্টি” ছিল এবং প্রায়ই তাঁর ছেলের সঙ্গে ভিডিও গেম খেলত। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে অভিযুক্ত যুবকটি স্কুলে থাকাকালীন থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিল।
মৃত ব্যক্তিটি আবর্জনা সংগ্রহের কাজ করতেন এবং সম্প্রতি দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণে ছুটিতে ছিলেন বলেও জানা গেছে। নিহতের বন্ধু লুই এবং তাঁর স্ত্রী ডোনা বলেছেন, মৃত ব্যক্তি ও অভিযুক্তের মা ছয় বছর ধরে একসঙ্গে ছিলেন। সন্তানদের নিয়ে তাদের সম্পর্কে ওঠাপড়া ছিল, কিন্তু এমন মর্মান্তিক কিছু ঘটবে তা কেউই কল্পনা করেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনা গোটা অঞ্চলে এক চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।