যাদবপুরে এবার গীতা ও হনুমান চালিশা পাঠ! গেরুয়া অবমাননা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চরম হুংকার

যাদবপুরে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’-র বিশাল পদযাত্রা শেষে আয়োজিত জনসভা থেকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের শিক্ষা থেকে শুরু করে সংস্কৃতি চত্বরে গেরুয়া রঙের বা সনাতন সংস্কৃতির অবমাননা করা হলে তা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এদিনের সভা থেকে হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম, শুধু সতর্ক করে গেলাম। গেরুয়া নিয়ে কুরুচিকর কিছু লেখার বলার আগে পাঁচবার ভাববেন।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী কাল সকাল এগারোটা থেকে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন বসতে চলেছে এবং সেখানে উচ্চশিক্ষার নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হবে। সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের আমন্ত্রণে আগামী দিনে ফের যাদবপুরে এসে প্রকাশ্যে গীতা ও হনুমান চালিশা পাঠ করবেন বলেও তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কার্তিক মহারাজ, উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ, দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য, দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী তাপস রায়।
অতীতে রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “১১-তে পণ করেছিলাম কমিউনিস্টদের সরাবো, মোদিজির নেতৃত্বে ২৬-এ বলেছিলাম জামাতি সরকারকে সরাবো, আপনাদের আশীর্বাদে সেটা হয়েছে।” স্বামী বিবেকানন্দ ও প্রণবানন্দের এই পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে গেরুয়া রঙের সম্মান রক্ষা করতে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার পীঠস্থানে যারা গেরুয়াকে অপমান করার সাহস দেখিয়েছেন, তাঁদের শিকড়সহ উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন—এই মাটিতে শেষ পর্যন্ত গেরুয়াই জয়ী হবে।