“বাউল সংস্কৃতি বাঁচানোর আকুল আর্জি!”-শুভেন্দুর জনতার দরবারে পূর্ণদাস বাউল

জমি জবরদখলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে এবার সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন দেশের বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ও বাউল সম্রাট পূর্ণদাস বাউল। দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত এই বিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বীরভূমের ইলামবাজার। মূলত অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর দলবলের প্রত্যক্ষ মদতেই এই বেআইনি জবরদখল চলেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিল্পী। সল্টলেক বিজেপি দফতরে আয়োজিত ‘জনতার দরবার’-এ পৌঁছে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে এবং কারা এই অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত, তার সমস্ত তথ্য প্রশাসনকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
জমি দখলের নেপথ্যে প্রভাবশালী যোগ
পারিবারিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালে ইলামবাজার থানার কামারপাড়া মৌজায় রাস্তার ধারের চার বিঘা জমি কিনেছিলেন পূর্ণদাস বাউল। কিন্তু ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে সেই জমি জবরদখল শুরু হয়। সুকুল টুডু নামের এক ব্যক্তি বর্তমানে ওই জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। শিল্পীর পরিবারের দাবি, বিগত সরকারের আমলে অনুব্রত মণ্ডলের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা ও মদত ছাড়া এই জবরদখল সম্ভব হতো না। বারবার জেলাশাসক ও ভূমি দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না মেলায় অবশেষে নতুন সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার চাইতে এসেছেন তাঁরা।
বাউল সংস্কৃতির প্রসারে জমি উদ্ধারের লড়াই
উদ্ধার করা ওই জমিতে ভবিষ্যতে বাউল সংস্কৃতি ও বাউল গানের শিক্ষার প্রসারে একটি বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর পরিবার। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের বেদখল হওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে আশাবাদী তিনি। এর আগে ১২ বছর ধরে বিদ্যুৎহীন থাকা পরিবার হোক কিংবা চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ—শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’ বিভিন্ন প্রান্তের বঞ্চিত মানুষের আশার আলো হয়ে উঠেছে। এবার সেই মঞ্চ থেকেই কিংবদন্তি শিল্পীর এই জমি উদ্ধার সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক লড়াই কত দ্রুত পরিণতি পায়, এখন সেটাই দেখার।