গোর্খাল্যান্ড নিয়ে বড় চাল! পাহাড়ি স্বার্থে সমস্ত বিভেদ ভুলে একমঞ্চে লড়াইয়ের ডাক দিলেন অনীত থাপা

পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সমগ্র গোর্খা জাতির স্বার্থে একমঞ্চে এসে লড়াই চালানোর ঐতিহাসিক আহ্বান জানালেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার (বিজিপিএম) সভাপতি অনীত থাপা। কার্শিয়াংয়ের মন্টিভিট প্লেগ্রাউন্ডে দলের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে পাহাড়ের অস্তিত্ব ও গোর্খা জাতির অধিকার রক্ষায় সমস্ত ব্যক্তিগত স্বার্থ ও অহংকার বিসর্জন দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রতিষ্ঠা দিবসের ভাষণে রাজনৈতিক দল ছেড়ে যাওয়া সহযোদ্ধা এবং বিরোধীদের উদ্দেশে অনীত থাপা অত্যন্ত নমনীয় সুরে বলেন, “আমার দুয়ার সবার জন্য সবসময় খোলা। গাছের ঝরে যাওয়া পাতাও আমি কুড়িয়ে নেব, কারণ রাজনীতিতে সব ধরনের পাতারই প্রয়োজন হয়।” সেই সঙ্গে পাহাড়ের উন্নয়নে অতীতের রক্তাক্ত হিংসাত্মক আন্দোলনের পথ চিরতরে বর্জনের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনও অবস্থাতেই স্কুল-কলেজ, পর্যটন ব্যবসা বা জনজীবন স্তব্ধ করা চলবে না। দিল্লির দরবার থেকে মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে আনতে হলে আইনসম্মত ও কৌশলগত পথে একজোটে লড়তে হবে।
এদিন নির্বাচনী ফায়দা তুলতে বারবার ‘গোর্খাল্যান্ড’ ইস্যুকে ব্যবহারের তীব্র রাজনৈতিক চক্রান্তের সমালোচনা করেন বিজিপিএম প্রধান। পাহাড়ি মানুষকে আর রাজনৈতিক চালের ঘুঁটি হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গোর্খাল্যান্ডের নাম করে পাহাড়ের মানুষকে আর রাজনীতির শিকার বানানো চলবে না, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে আমাদের এগোতে হবে।” নিজের চেয়ার ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যদি আমার চেয়ার ছাড়লে গোর্খাল্যান্ড দ্রুত মেলে, তবে তাই হোক! আমি চেয়ারম্যানের পদও ছেড়ে দিয়েছি।” সেই সঙ্গে বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যদি সত্যি গোর্খাল্যান্ড দেওয়ার সদিচ্ছা থাকে তবে তা অবিলম্বে রূপায়ণ করা হোক, অন্যথায় আগামী দিনে জনগণ ভোট দিয়ে তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
পাহাড়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহাওয়া ও বাকস্বাধীনতা খর্ব হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিজিপিএম পাহাড়ে মুক্ত হাওয়া এনেছিল, যা আজ হরণের চেষ্টা চলছে। চা-বাগান ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের সঠিক দিশা দেখানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। দলের ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ভোটের শক্ত ভিত্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, অনীত থাপা কখনও ক্লান্ত হন না বা মাথা নত করেন না। গ্রামস্তর থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বুথভিত্তিক টিম গঠন করে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গোর্খাদের মর্যাদা ও আঞ্চলিক অধিকার রক্ষায় যে কোনও ত্যাগ স্বীকার করতে বিজিপিএম সর্বদা প্রস্তুত—ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন পাহাড়ি এই নেতা।