স্কুলের ব্যাগে ছুরি, মেট্রো স্টেশনে সহপাঠীকে কুপিয়ে খুন! দক্ষিণেশ্বর কাণ্ডে শিউরে উঠছেন প্রতিবেশীরা

ভরদুপুরে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে সহপাঠীকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা রাজ্য। সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়েছে এক স্কুলছাত্র। এই নৃশংসতার কারণ কী, তা জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত রানা সিংকে গ্রেফতার করার পর তার প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় হতবাক। তাদের বয়ানে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশের জেরায় জানা গেছে, নিহত মনোজিৎ যাদব এবং অভিযুক্ত রানা সিং দুজনেই বরানগরের আলমবাজার এলাকায় থাকত। তারা একে অপরের প্রতিবেশী ছিল। এই ঘটনার পর প্রতিবেশীরা জানান, রানা ছোটবেলা থেকেই জেদি এবং আক্রমণাত্মক ছিল। তাদের মতে, কোনো ছোটখাটো বিষয় নিয়েও সে সহজেই রেগে যেত। তবে, এমন ভয়ঙ্কর অপরাধ সে করতে পারে, তা তারা কল্পনাও করেননি।
পুলিশি তদন্তে আরও জানা গেছে, এক কিশোরীকে কটূক্তি করা নিয়ে মনোজিৎ ও রানার মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত। গত ১০ তারিখে তাদের মধ্যে এই নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। শুক্রবার শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনে তাদের মধ্যে আবারও ঝামেলা হয়, যার পরিণতি হয় দক্ষিণেশ্বর স্টেশনে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড।
রানার পরিবার এই ঘটনার পর তাকে নিয়ে বিহারে পালানোর চেষ্টা করেছিল, যা প্রতিবেশীদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি করেছে। তারা জানান, রানার পরিবারের এই আচরণ তাদের বিস্মিত করেছে এবং তারা চান অপরাধীর যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।
এই ঘটনার পর থেকে মেট্রো রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিত্যযাত্রীরা এবং স্কুল পড়ুয়াদের অভিভাবকরাও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তারা প্রশ্ন তুলছেন, ভরা মেট্রো স্টেশনে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা কোথায়? এই ঘটনার পর বরানগরের আলমবাজারে রানার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।