আমাদের শরীরের নানা জায়গায় মাঝেমধ্যেই ব্যথা হয় – কখনও কম, কখনও বেশি। অধিকাংশ সময়েই আমরা এই ব্যথাগুলোকে তেমন একটা গুরুত্ব দিতে চাই না। অথচ এই সাধারণ ব্যথাগুলোই হতে পারে অনেক বড় কোনো সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ, যা ভবিষ্যতে এমনকি মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। তাই এই ধরনের ব্যথাকে মোটেই অবহেলা করা উচিত নয়। জেনে নিন, কোন কোন ধরনের ব্যথাকে ফেলে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
১. তীব্র দাঁত ব্যথা
যদি আপনার দাঁত ব্যথার মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, মাঝরাতে গভীর ঘুমেও ব্যথার কারণে আপনার ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে দ্রুত দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। দাঁতের ছিদ্রের মাধ্যমে ইনফেকশন মাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার কারণে এই ধরনের দাঁত ব্যথা হতে পারে। সময় মতো চিকিৎসা না করালে এটি আরও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
২. অস্বাভাবিক মাথা ব্যথা ও দৃষ্টি সমস্যা
হঠাৎ করে যদি মাথায় অস্বাভাবিক যন্ত্রণা শুরু হয় এবং মাথা ব্যথার কারণে দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হতে শুরু করে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা একেবারেই উচিত হবে না। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, কোনো আঘাত, টিউমার ইত্যাদি গুরুতর সমস্যার কারণে মাথায় এ ধরনের অস্বাভাবিক ব্যথা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
৩. তলপেটের ডান দিকের ব্যথা
তলপেটের ডান দিকে ব্যথা যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং ব্যথার স্থান যদি ঘন ঘন তলপেটের নানা অংশে ঘোরাফেরা করতে থাকে, তাহলে এটি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। চিকিৎসকই বলতে পারবেন যে এক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করা কতটা জরুরি বা কখন করা উচিত।
৪. পিঠের মাঝামাঝি ব্যথা, জ্বর ও ক্লান্তি
পিঠের মাঝামাঝি জায়গায় ব্যথা, জ্বর এবং ক্লান্তিকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত হবে না। কারণ, এগুলো হতে পারে কিডনির বড়সড় সমস্যার অগ্রিম লক্ষণ। কিডনিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং ইউরিন ইনফেকশনের জন্য এ ধরনের ব্যথা হতে পারে। অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৫. মাসিকের সময় অস্বাভাবিক পেটে ব্যথা
ঋতুস্রাব বা মাসিকের সময়ে যদি অস্বাভাবিক পেটে ব্যথা থাকে এবং সেই ব্যথা যদি সহজে না কমে, তাহলে বিষয়টা একেবারেই অবহেলা করবেন না। কারণ নানা ধরনের গাইনি সমস্যার কারণে ঋতুস্রাব বা মাসিকের সময়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, শরীর আমাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যথার মাধ্যমে। তাই কোনো ব্যথাকে হালকাভাবে না নিয়ে, তার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ জীবনযাপনই আসল সম্পদ।





