রেকর্ড ভাঙা ভালোবাসার টান! কুলিকের পাখিরালয়ে পরিযায়ী পাখির সংখ্যায় বিরাট চমক, বাড়ল কত শতাংশ?

গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে তারা আসে, প্রজনন করে, ডিম পাড়ে, বাচ্চাদের উড়তে শেখায়—তারপর শীতের মুখে পাড়ি দেয় নিজেদের ঘরের দিকে। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের কুলিক নদীর তীরের পাখিরালয়ে আসা পরিযায়ী পাখিদের এই চিরাচরিত রীতি এবারও অটুট। তবে, এই বছর (২০২৫) পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বিগত কয়েক বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

বন দফতরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুলিক পাখিরালয়ে পরিযায়ী পাখির মোট সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৮ হাজার! যা গতবারের (৯৬ হাজার ৭১৯) তুলনায় প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেশি। রায়গঞ্জের বিভাগীয় বনাধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা এই তথ্য জানিয়েছেন।

সংখ্যাবৃদ্ধি কেন? বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু

বনাধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, “প্রতিবছরই আমরা নজরদারি চালাই। এ বছর নাইট হেরেন, ওপেন বিল স্টক, কর্মরেন্ট, গ্লসি আইভিস ও ইগ্রেট মিলিয়ে মোট পাখির সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৮ হাজার। প্রত্যেক বছর পাখির সংখ্যা কম-বেশি হয়, কিন্তু এ বছর আমরা সংখ্যাটা বেশি আশা করেছিলাম, যা পূরণ হয়েছে।”

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওপেন বিল স্টক (৬৯,৫৫৮), কর্মরেন্ট (৯,৯৫১), এবং নাইট হেরেন (৩,৫৫৭)-এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে গ্লসি আইভিস (Glossy Ibis)-এর সংখ্যায়। গত বছর (২০২৪) যেখানে এই পাখির সংখ্যা ছিল ২৫১, সেখানে চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৫০৬-এ।

সাধারণত মে মাসের শুরুতেই এই পরিযায়ী পাখিরা কুলিকে আসে। প্রায় ৬-৭ মাস সময় কাটানোর পর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তারা দলে দলে ঘরে ফিরে যায়। বর্তমানে পাখিদের বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য বিশেষ বার্তা

বিভাগীয় বন আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা পর্যটকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, “জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাখি থাকবে। তাই পর্যটকরা এখানে আসুন, দেখুন। তবে, অবশ্যই প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখবেন। বনাঞ্চলের পরিবেশ ও পাখিদের বসবাসে যাতে কোনও সমস্যা না-হয়, তা মাথায় রাখতে হবে।”

একনজরে পরিযায়ী পাখির পরিসংখ্যান (তুলনা)

পাখির প্রজাতি২০২৪ (সংখ্যা)২০২৫ (সংখ্যা)
ওপেন বিল স্টক৭১,০২২৬৯,৫৫৮
নাইট হেরন৩,০২১৩,৫৭৭
ইগ্রেট১৬,২৮২১৫,৪৮৬
কর্মরেন্ট৬,১৪৩৯,৯৫১
গ্লসি আইভিস২৫১১,৫০৬
মোট পাখির সংখ্যা৯৬,৭১৯১,০০,০৫৮

দ্রষ্টব্য: বন দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের মোট পাখির সংখ্যাটি ১ লক্ষ ৫৮ হাজার হলেও, সারণিতে উল্লেখিত যোগফলটি ১ লক্ষ ৫৮-এর চেয়ে সামান্য কম। তবে এটি বিগত বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।