মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, হাসিনার প্রত্যর্পণের আর্জি ভারতের কাছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে তীব্র ক্ষোভ মুজিব-কন্যার

মানবতাবিরোধী অপরাধের (Crimes Against Humanity) মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। সোমবার এই রায় ঘোষণা হতেই আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামি লিগ বিরোধীদের মধ্যে প্রবল উল্লাস এবং হাততালি দেখা যায়।

রায় ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের প্রত্যর্পণের আর্জি নিয়ে ভারতের শরণাপন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের কাছে এই দুই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দ্রুত হস্তান্তরের আবেদন জানিয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, “হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে আশ্রয় দেওয়া অবন্ধুসুলভ আচরণ হবে। দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আসামীদের ফিরিয়ে না দিলে তা ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার সামিল।”

হাসিনার তীব্র প্রতিক্রিয়া: আদালতের এই রায় ঘোষণার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুজিব-কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি ট্রাইবুনালের সব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “গত বছরের জুলাই-আগস্টে যত জনের মৃত্যু হয়েছে, সে জন্য আমি শোকাহত। কিন্তু আমি কিংবা কোনও রাজনৈতিক নেতা কখনওই কোনও আন্দোলনকারীকে হত্যা করার নির্দেশ দিইনি।”

ট্রাইবুনালের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি, এমনকি নিজের পছন্দের আইনজীবী বাছার সুযোগও দেওয়া হয়নি। হাসিনা এই ট্রাইবুনালকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া না মেনে রিগিং করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। পক্ষপাতমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে এই মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। মৌলবাদীদের ইচ্ছেতেই এই রায়।”

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতে অবস্থান করার কারণে শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের ঝুঁকি নেই। তবে এখন তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং মিত্র দেশগুলির কাছ থেকে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন। নির্বাসিত থাকা অবস্থাতেই তিনি তাঁর দল এবং সমর্থকদের সংগঠিত করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারেন।

Related Posts

© 2025 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy