‘সুগার আছে বলে ভয় পাবেন না, নিশ্চিন্তে আলু খান!’-পরামর্শ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের

মেদিনীপুরে শুক্রবার এক চা-চক্রে যোগ দিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এমন এক মন্তব্য করলেন, যা নিয়ে স্বাস্থ্য ও কৃষি মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ডায়াবেটিস রোগীদের আলু খাওয়ার ক্ষেত্রে যে চিরকালীন ভয় থাকে, তা উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিন্তে আলু খান। সুগার আছে বলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শর্করা তো অন্যান্য খাদ্যেও থাকে। আর আপনারা আলু না খেলে বিক্রি হবে কী করে?”

হিমঘর বনাম ক্ষেতের আলু: মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘরে রাখা আলুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই ব্লাডসুগার বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি বলেন, “ক্ষেত থেকে সরাসরি আনা আলু খেলে সুগার বাড়বে না। বিশেষ তাপমাত্রায় আলু রাখলে সুগার বাড়ার প্রবণতা কমে, তবে খরচ বেশি বলে সবাই তা করে না। আমরা এই প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেব।”

বাজারের ভারসাম্য ও আলু রপ্তানি: রাজ্যে আলুর প্রচুর ফলন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বাংলায় বছরে ৭১ লক্ষ মেট্রিক টন আলুর চাহিদা থাকলেও, হিমঘর ও বাজার মিলিয়ে প্রায় ৮৫ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি আলু রয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি থাকায় কৃষকদের লাভের জন্য এই বাড়তি আলু ভিনরাজ্যে পাঠানো জরুরি।” তিনি আগের সরকারের বিরুদ্ধে আলু রপ্তানি বন্ধ করার অভিযোগ তুলে কৃষকদের লোকসানের জন্য তাঁদেরই দায়ী করেন।

চিকিৎসকদের মত: মন্ত্রীর এই আলু খাওয়ার পরামর্শের পর হায়দরাবাদের চিকিৎসক রামু চিমামূর্তির মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত মাত্রায় আলু খেতেই পারেন। তবে হিমঘর বা ক্ষেতের আলু—এদের মধ্যে পুষ্টিগুণ বা সুগারের প্রভাবের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। সব আলুই কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে সমান।” অর্থাৎ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, আলুর গুণাগুণ চাষের পদ্ধতির ওপর বিশেষ নির্ভর করে না।

চা-চক্রের শেষে মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে মন্ত্রীকে পাকা আম খেতেও দেখা যায়, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে বেশ শোরগোল পড়ে। তবে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের এই ‘আলু-দাওয়াই’ রাজনীতির মাঠে বা বাজারের আলুর দামে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy