ভারতীয় আকাশসীমায় ঘনিয়ে আসছে বড়সড় সংকট। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমান জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের জেরে কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ চলে গিয়েছে দেশের প্রধান বিমান সংস্থাগুলি। পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ, তা জানিয়ে এবার সরাসরি অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের দ্বারস্থ হল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA)। তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপ না মিললে যেকোনো মুহূর্তে থমকে যেতে পারে বিমান পরিষেবা।
কেন এই ‘চরম চাপ’?
ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেটের মতো সংস্থাগুলির মিলিত সংগঠন FIA জানিয়েছে, বর্তমানে একটি বিমান পরিচালনার মোট ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানির পেছনে। এর কারণগুলি হলো:
আন্তর্জাতিক অস্থিরতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
আকাশপথের বিধিনিষেধ: যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হচ্ছে, যা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ।
টাকার অবমূল্যায়ন: ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম কমায় জ্বালানি আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
বৈষম্যের অভিযোগ: আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে লোকসানের পাহাড়
বিমান সংস্থাগুলির দাবি, গত এক মাসে ঘরোয়া উড়ানের ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ানো হলেও, আন্তর্জাতিক রুটের জন্য সেই বৃদ্ধি হয়েছে ৭৩ টাকা! এই ব্যাপক বৈষম্যের ফলে এপ্রিল মাসে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সংস্থাগুলি। এর জেরে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে গোটা নেটওয়ার্ক।
কেন্দ্রের কাছে দাবিদাওয়া
সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ আর্জি জানিয়েছে বিমান সংস্থাগুলি: ১. কর ছাড়: এটিএফ-এর ওপর থাকা ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে তুলে নিতে হবে। ২. অভিন্ন মূল্য: অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জ্বালানির দামে একটি অভিন্ন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ৩. ভর্তুকি: জ্বালানি আমদানিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
আমজনতার ওপর প্রভাব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি জ্বালানির দামে ছাড় না দেয়, তবে বিমান সংস্থাগুলি তাদের লোকসান সামাল দিতে টিকিটের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি খরচ কমাতে বহু রুটে ফ্লাইট বাতিল করার মতো চরম সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের ওপর।





