ভোটের বাদ্যি বাজার পর থেকেই রাজনৈতিক পারদ ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তবে প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে এসে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর। সোমবার বিকেলে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লি এলাকায় বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের প্রচার সভাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
তৃণমূলের অভিযোগ, সজল ঘোষের সভার অনুমতি ছিল দুপুর ২টো পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি সভা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদারের দাবি, বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে তাঁদের মিছিলের সময় ছিল, কিন্তু বিজেপির সভার কারণে তাঁদের প্রচারে বাধা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগান।
পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে সজল ঘোষ বলেন, “আমাদের কাছে বৈধ অনুমতি ছিল। কিন্তু গত ২-৩ ঘণ্টা ধরে তৃণমূল কাউন্সিলর ও কর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার প্রচারে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সময় পেরিয়ে গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ পুলিশের, তৃণমূলের নয়।” দু-পক্ষের এই দ্বৈরথে সুভাষপল্লি এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে, উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকাও। সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক ও তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম), যেখানে তাঁকে নারায়ণপুর থানার আইসি-কে রীতিমতো শাসাতে দেখা যাচ্ছে। দুই তৃণমূল কর্মীকে পুলিশ আটক করার প্রতিবাদে সটান থানায় চড়াও হন তিনি। পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের অভিযোগ তুলেছেন তাপস বাবু।
পাশাপাশি, পানিহাটিতে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে পরিকল্পনা করে তাদের নেতা-কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে শেষ দফার ভোটের আগে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।





