সংসদে হাইভোল্টেজ ড্রামা! ভেস্তে গেল মহিলা সংরক্ষণ বিল, বড় জয় রাহুলের?

নারী ক্ষমতায়নের পথে বড়সড় ধাক্কা। লোকসভায় ভোটাভুটির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পাশ করানো গেল না বহুল চর্চিত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (মহিলা সংরক্ষণ বিল)। শুক্রবার দীর্ঘ দু’দিনের টানটান উত্তেজনা ও বিতর্কের পর ভোটাভুটির ফলাফল আসতেই দেখা যায়, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে সরকার পক্ষ।

সংখ্যাতত্ত্বের লড়াইয়ে হার: সংবিধান সংশোধনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। শুক্রবার লোকসভায় মোট ৪৮৯ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নেন। বিলটি পাশ করানোর জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২৬টি ভোট। কিন্তু সরকারের পক্ষে পড়ে ২৭৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারায় বিলটি খারিজ হয়ে যায়। এর পরপরই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অপর দুটি বিলও আর ভোটাভুটিতে আনা হবে না।

রাহুলের তীব্র আক্রমণ ও ওবিসি রাজনীতি: বিলটি নিয়ে আলোচনার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিলটি খারিজ হওয়ার পর কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এটি আসলে মহিলাদের ক্ষমতায়নের বিল নয়, বরং ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি সুক্ষ্ম চক্রান্ত।” রাহুলের অভিযোগ, সরকার আদতে জাতিভিত্তিক জনগণনা (Caste Census) এড়াতে চাইছে। ওবিসি ভাই-বোনদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করতেই এই বিলের আড়ালে ডিলিমিটেশন বা সীমানা নির্ধারণের খেলা চলছে। তিনি সাফ জানান, “আপনারা যা করছেন তা লজ্জাজনক। অবিলম্বে পুরনো নারী শক্তি আইন কার্যকর করুন, আমরা এখনই সমর্থন দেব।” কেন এই বিল নিয়ে বিতর্ক? বিরোধীদের প্রধান আপত্তির জায়গা ছিল ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে আনা ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত শর্ত। বিরোধীদের দাবি, নতুন আদমশুমারি ও সীমানা নির্ধারণের দোহাই দিয়ে মহিলাদের অধিকারকে আরও ১০ বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

শুক্রবারের এই ফলাফলের পর জাতীয় রাজনীতিতে লিঙ্গভিত্তিক সংরক্ষণ এবং জাতিগত জনগণনা নিয়ে বিতর্ক যে আরও কয়েক গুণ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy