মমতা ম্যাজিক খতম! বাংলায় এবার পদ্ম-রাজ, মালদা-মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের দুর্গে ধস নামাল কে?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হল। দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পাওয়া ট্রেন্ড অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়ছে গেরুয়া শিবির। উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই এখন মোদী-ঝড়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে বিজেপি কার্যত ‘ক্লিন সুইপ’ করেছে। তবে সবথেকে বড় চমক দেখা গিয়েছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায়। যে জেলা দুটিকে তৃণমূলের ‘নিরাপদ দুর্গ’ মনে করা হতো, সেখানেই এবার বড়সড় ফাটল ধরেছে।

মালদা-মুর্শিদাবাদে কেন ডুবল তৃণমূলের নৌকা?
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মালদা ও মুর্শিদাবাদের ৩৪টি আসনের মধ্যে ২৮টি ছিল তৃণমূলের দখলে। কিন্তু এবার সেই ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে মাত্র ৯টি পেয়েছে ঘাসফুল শিবির। বাকি ১৩টি আসন ভাগ করে নিয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস, বাম ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। অন্যদিকে মালদাতেও ৮টি আসন থেকে কমে এবার তৃণমূলের ঝুলি শূন্য হওয়ার পথে। মানিকচক ও বৈষ্ণবনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলি ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি।

নেপথ্যে কী কী কারণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জয়ের প্রধান চাবিকাঠি ছিল ‘মেরুকরণ’ এবং ‘কর্মসংস্থান’। জেলা স্তরের বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ ঘোষের মতে, “এবার সংখ্যাগুরু ভোট যেমন এককাট্টা হয়েছে, তেমনই সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। গ্রামীণ মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেলেও, তাঁদের কাছে প্রাধান্য পেয়েছে সন্তানদের স্থায়ী কর্মসংস্থান।”

পরিযায়ী শ্রমিকের ক্ষোভ ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আকর্ষণ
মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে যান। বারবার ভিন রাজ্যে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা এবং গ্রামে কাজের অভাব সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিকরা এবার ভোট দিতে এসে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা আর বাইরে যেতে চান না। এর পাশাপাশি তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ মহিলাদের একাংশকে প্রভাবিত করেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেছেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার এলে বাংলার শিল্প ও পরিকাঠামোর উন্নতি হবে।

সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রভাব
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হিংসা হিন্দু ভোটারদের বড় অংশকে বিজেপির দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলের নৃশংস খুনের ঘটনা ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এর ফলে হিন্দু ভোট একচেটিয়া গেরুয়া শিবিরের বাক্সে গিয়েছে, আর মুসলিম ভোট কংগ্রেস ও বামেদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের পরাজয় ত্বরান্বিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলায় ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। নতুন সরকারের কাছে এখন সাধারণ মানুষের একটাই দাবি— বাংলা যেন আবার কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy