কথায় বলে, ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝা উচিত’। কিন্তু আমরা কজন আর সেই কথা মেনে চলি? শরীরের অন্যান্য অঙ্গের যত্ন নিলেও দাঁত ও মাড়ির বিষয়টি আমরা প্রায়শই এড়িয়ে যাই। চিকিৎসকদের মতে, মুখের স্বাস্থ্য কেবল ঝকঝকে হাসির জন্য নয়, বরং এটি আপনার শরীরের সার্বিক সুস্থতার আয়না। দাঁতের সামান্য সমস্যাকে অবহেলা করলে তার ফল হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ।
দাঁতের অযত্নে কী কী মারাত্মক বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে, জেনে নিন:
হৃদরোগের ঝুঁকি: অবাক লাগলেও সত্যি, মাড়ির ইনফেকশন বা পিরিওডন্টাইটিস থাকলে সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়া রক্তে মিশে হৃদযন্ত্রের ধমনীতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের দাঁতের অবস্থা খারাপ, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।
স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া: মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া মস্তিষ্কের স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘদিন মাড়ির সমস্যায় ভুগলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বা আলঝেইমার্সের মতো জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
ডায়াবেটিসের জটিলতা: মাড়ির রোগ এবং ডায়াবেটিস একে অপরের পরিপূরক। মাড়ির ইনফেকশন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, আবার ডায়াবেটিস থাকলে দাঁতের রোগ সহজে সারতে চায় না।
হাড়ের ক্ষয়: দাঁতের গোড়ায় সংক্রমণ হলে তা চোয়ালের হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এর ফলে অল্প বয়সেই দাঁত পড়ে যাওয়া এবং মুখের আকৃতি নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।
কীভাবে সতর্ক হবেন?
দিনে দুবার ব্রাশ: শুধু সকালে নয়, রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা সবথেকে জরুরি। কারণ সারারাত মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধির সুযোগ পায়।
ফ্লসিং ও মাউথওয়াশ: দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করতে নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার করুন।
জিভ পরিষ্কার রাখা: দাঁতের পাশাপাশি জিভ পরিষ্কার রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেও প্রচুর জীবাণু বাসা বাঁধে।
প্রতি ৬ মাসে চেকআপ: কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে অন্তত দুবার ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।
আপনার অবহেলার কারণেই যদি অকালে দাঁত হারাতে হয়, তবে তার চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। তাই সময় থাকতে সতর্ক হোন, সুস্থ থাকুন।





