চৈত্র শেষ হতে না হতেই সূর্যের প্রখর তেজ জানান দিচ্ছে যে, সামনে কঠিন দিন আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ বছর গরমের তীব্রতা আগের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই তীব্র দাবদাহে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন বা পেটের সমস্যায় নাজেহাল হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে গরমের প্রকোপ বাড়ার আগেই যদি সামান্য কিছু প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তবে অনায়াসেই শরীরকে রাখা যাবে চনমনে ও সুস্থ।
তীব্র গরমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিজেকে প্রস্তুত রাখুন এই ৩টি অব্যর্থ দাওয়াইয়ের মাধ্যমে:
জলই হোক পরম বন্ধু (Hydration Strategy): গরমের প্রধান শত্রু হলো ডিহাইড্রেশন। তাই তেষ্টা পাক বা না পাক, দিনভর পর্যাপ্ত জল পানের অভ্যাস এখন থেকেই গড়ে তুলুন। শুধু সাধারণ জল নয়, ডাবের জল, লেবুর শরবত বা বাড়িতে তৈরি ওআরএস (ORS) সাথে রাখুন। ডায়েটে যোগ করুন শসা, তরমুজ ও লাউয়ের মতো জলীয় উপাদান সমৃদ্ধ সবজি ও ফল। মনে রাখবেন, শরীর হাইড্রেটেড থাকলে গরম সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ে।
খাদ্যাভ্যাসে বদল (Dietary Adjustment): এই সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখা জরুরি। তাই অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, কফি এবং রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিবর্তে সহজপাচ্য খাবার যেমন— পাতলা মাছের ঝোল, টক দই এবং পান্তা ভাত জাতীয় খাবার তালিকায় রাখুন। দুপুরে রোদে বেরোনোর আগে ডাল বা ফলের রস খেয়ে বেরোলে শরীর সহজে ক্লান্ত হবে না।
পোশাক ও সুরক্ষায় বিশেষ নজর (Protection Gear): গরম থেকে বাঁচতে সুতির হালকা রঙের পোশাক পরার অভ্যাস করুন। হালকা রঙের সুতি কাপড় শরীরে হাওয়া চলাচলে সাহায্য করে এবং ঘাম শুষে নেয়। বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা, রোদচশমা (Sunglasses) এবং টুপি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এছাড়াও ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচাতে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা শুরু করুন আজ থেকেই।
প্রকৃতিকে বদলানো আমাদের হাতে নেই, কিন্তু নিজের অভ্যাস বদলে গরমকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব। এই ৩টি পরামর্শ মেনে চললে তীব্র দাবদাহেও আপনি থাকবেন রকেটের মতো ফাস্ট এবং সুস্থ!





