পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালোবাসাময়, বিশ্বাসপূর্ণ আর পবিত্র সম্পর্ক হিসেবে আমরা দাম্পত্য সম্পর্ককে বুঝি। দাম্পত্য সম্পর্ক মানেই দু’জন মানুষের খুনসুটি আর একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার এক অসীম চেষ্টা। তবে মতের অমিল, ভুল-বোঝাবুঝি, অসহিষ্ণুতা, রুক্ষ মেজাজ, আমিত্বের নানা কারণে সুন্দর দাম্পত্য জীবনে ঘটতে পারে ছন্দপতন।
দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকলে ঝগড়া হবে, তাই বলে ভালোবাসার চর্চা বন্ধ করা যাবে না। রাগের বশে জীবন এলোমেলো করে ফেলারও কোনো মানে হয় না। যৌবন থেকে জীবনের গোধূলি পর্যন্ত জীবনসঙ্গীর সঙ্গে হাসি–আনন্দে পথ চলতে চাইলে কিছু বিষয় সচেতনভাবে এড়িয়ে যেতে হয়, আবার কিছু বিষয়ের চর্চাও করতে হয়। চলুন জেনে আসি কীভাবে দাম্পত্যজীবনকে আরও সুন্দর করে তোলা যায়—
১. সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ
যেকোনো সম্পর্কেই পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ ভীষণ জরুরি। হোক সেটা বন্ধুত্ব, প্রেম কিংবা বিবাহিত জীবন। যেকোনো কথা, আচার কিংবা ব্যবহারের মধ্যে সেই সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ যেন প্রতীয়মান থাকে। না হলে সেখানে একটা অদৃশ্য দূরত্ব সৃষ্টি হবে, যা পরস্পরের অজান্তে সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তুলবে।
২. প্রশংসা করা
আমরা অনেক সময়ই সঙ্গীর কাজ কিংবা তার পাশে থাকাকে ‘টেকেন ফর গ্র্যান্টেড’ হিসেবে নিয়ে ফেলি। কিন্তু এমনটা করা উচিত নয়। সময়ের হিসাবে সম্পর্কের বয়স যত পুরোনো হোক, আপনাকে আপনার সঙ্গীর প্রতি স্নেহশীল হতে হবে। তার যেকোনো ভালো কাজের প্রশংসা করতে হবে এবং তা আপনার জীবনসঙ্গীর আড়ালে নয়, সামনাসামনি।
৩. মনোযোগী হওয়া
সব সময় একে অপরের প্রতি অখণ্ড মনোযোগ দিলে আপনার সম্পর্কে কখনো চিড় ধরবে না। আপনাকে সবসময় বোঝাতে হবে, আপনি আপনার সঙ্গীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আপনি আপনমনে কাগজ পড়ছেন আর সঙ্গী কথা বলে চলেছে, আপনি শুধু হু হু করলেন, এতে সম্পর্কে অভিমান বাসা বাধতে পারে। আর অভিমান জমে পাহাড় হয়ে গেলে তা পেরোনো মুশকিল।
৪. সম্পর্ক ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করুন
পরম আকাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়ে গেলে নাকি মানুষের আগ্রহ ফুরিয়ে যায়। বিয়ের পর যদি মনে করেন তাকে পেয়ে গেছি, এখন আর নতুন করে কিছুই দেওয়ার নেই বা প্রমাণ করার নেই, তাহলে ভুল ভাবছেন। মনে রাখবেন, সম্পর্ক গড়ে তোলার চাইতে টিকিয়ে রাখা কঠিন। আপনি যদি দায়সারাভাবে সম্পর্কে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করেন তাহলে নিজেও যেমন সুখ পাবেন না, তেমনি সঙ্গীকেও সুখে রাখতে পারবেন না। সম্পর্ককে ধরে রাখতে অবশ্যই আপনাকে কাজ করতে হবে। নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে।
৫. একসঙ্গে সময় কাটানো
ভবিষ্যতের কথা ভেবে যে বর্তমানে নিজেকে কাজে ডুবিয়ে সঙ্গীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন, তার ভবিষ্যৎ কী- তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? বিয়ের পর সম্পর্কের বয়স যত বেশিই হোক না কেন, সময় দেওয়ার বেলায় কারোই কার্পণ্য করা উচিত নয়।
আপনি মানুন বা না মানুন, প্রাপ্য সময়টুকু দুজন দুজনকে দেওয়ার মাধ্যমেই সম্পর্কে মধুরতা আসে, সম্পর্ক মজবুত হয়। এই সময়টুকু হেলায় পার করে দেওয়ার পর দাম্পত্য জীবনে সুখ খোঁজা খড়ের গাঁদায় সুচ খোঁজার মতো ব্যাপার।
৬. ক্ষমা করা
মানুষ মাত্রই ভুল হয়ে থাকে। সঙ্গীর কোনো ভুল যদি ক্ষমার অযোগ্য না হয়, তবে তা ধরে বসে না থাকাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ঠান্ডা মাথায় স্বামী অথবা স্ত্রীকে ভুলটা ধরিয়ে দিন অথবা বুঝিয়ে বলুন। আপনি তার কোনো কাজে বা কথায় কষ্ট পেলে তা খুলে বলুন এবং তাকে ক্ষমা করে দিন। ক্ষমা করার পর এই ভুল নিয়ে আর কখনো কোনো কথা বলবেন না। ভুলের কথা সম্পূর্ণভাবে ভুলে যান। তবেই সম্পর্ক সুন্দর থাকবে।





