এশিয়ান গেমসে সোনা হাতছাড়া! অলিম্পিকের টিকিট জিতেও কোন বড় আক্ষেপ নিয়ে লড়ছেন তারকা তিরন্দাজ?

সদ্য সমাপ্ত আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ভারতের পারফরম্যান্স অত্যন্ত উজ্জ্বল হলেও, দেশের অন্যতম সেরা কম্পাউন্ড তিরন্দাজ অভিষেক ভার্মার ব্যক্তিগতভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হয়নি। তবে এই আক্ষেপকে দূরে সরিয়ে রেখে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের আগামী দিনের নতুন লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং ভারতের মাটিতে আয়োজিত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই কঠোর অনুশীলনে নেমে পড়েছেন এই অভিজ্ঞ তারকা।
এবারের এশিয়ান গেমসে कंपाउंड তিরন্দাজির মিশ্র টিম ইভেন্টে সাহিল जाधव এবং चिकिता तनिपार्थी স্বর্ণপদক জয় করে দেশের জন্য ঐতিহাসিক অলিম্পিক কোটা নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে ভারত কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে অলিম্পিক কোটা অর্জনকারী প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতিযোগিতায় लगातार চতুর্থবারের মতো অংশ নিতে না পারার হতাশা স্বীকার করে নিয়ে ৩৭ বছর বয়সি অভিষেক জানিয়েছেন যে, দল থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। তবে যে তরুণ খেলোয়াড়দের তিনি নিজে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাঁরা দেশের হয়ে সেরার সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ায় তিনি ভীষণ সন্তুষ্ট।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “এশিয়ান গেমসে খেলতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই, তবে যাঁদের আমি প্রশিক্ষণ দিয়েছি, তাঁরা মাঠে নেমে ঠিক তেমনই পারফর্ম করেছে যেমনটা আমি চেয়েছিলাম।” অলিম্পিক কোটা যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের জন্য নয়, বরং দেশের জন্য বরাদ্দ হয়, তাই এই সাফল্যের পর এখন ভারতীয় তিরন্দাজদের কাঁধ থেকে বাড়তি চাপ সরে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, আগামী দেড় বছর খেলোয়াড়রা কোনো বাধা ছাড়াই শুধুমাত্র অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, বর্ণময় ক্যারেডিয়ারে তিনটি এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করে দুটি স্বর্ণসহ মোট পাঁচটি পদক এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেটের একাধিক খেতাব জয় করা সত্ত্বেও অভিষেক ভার্মার সাফল্যের ক্ষুধা বিন্দুমাত্র কমেনি। এই প্রসঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “মানুষের স্বভাবই হলো যত বেশি সে অর্জন করে, তার চাহিদাও তত বাড়তে থাকে। আমার পরবর্তী এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য হল লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক।” দেশের তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এখন ভবিষ্যতের বড় মঞ্চগুলোতে ভারতের পতাকা উড়ানোর জন্যই পুরোপুরি প্রস্তুত।