সিইসির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রাহুল! দিল্লি স্তব্ধ করে ‘শিবের বরযাত্রী’ নিয়ে মেগা আন্দোলনের ডাক

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধার বহুগুণ বাড়িয়ে দিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। সোমবার কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, সংবিধান রক্ষার এই লড়াইয়ে তাঁরা এবং বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাতে চলেছেন। সুপ্রিম কোর্টে প্রস্তাবিত পদযাত্রার আগে দিল্লিতে চরম পুলিশি নিরাপত্তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানী দিল্লিকে সম্পূর্ণভাবে একটি সেনা ছাওনিতে পরিণত করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে রাজধানীতে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আন্দোলন রুখতে সাধারণ মানুষকে ট্রেন ও বাস থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের সমস্ত বাধা সত্ত্বেও বিরোধীরা নিজেদের বার্তা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘‘মোদী সরকার যেভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার চেষ্টা করছে, তা আজ গোটা দেশের সামনে স্পষ্ট। সরকার যত বেশি তাঁর পাশে দাঁড়াবে, সাধারণ মানুষের চোখে ততটাই নিজেদের মুখোশ খুলে ফেলবে।’’ রাহুল দাবি করেন, গৃহ মন্ত্রক, দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর একাংশও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে যে, কেন নিরীহ তরুণদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে দেশের মূল অপরাধীদের মুক্ত রাখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে রাহুল গান্ধী এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, ‘‘পুলিশ বাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্য গোপনে আমাদের বলছেন যে, আমরা যে লড়াইটা করছি তা একদম সঠিক এবং এটা চালিয়ে যাওয়া উচিত।’’ সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা করে কংগ্রেস নেতা হুঙ্কার দেন, ‘‘আমরা জানি আপনার রাতের ঘুম উবে গেছে। আপনার আচরণ নিয়ে আজ দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রশ্ন তুলছে। আমরা আপনাকে কিছুতেই ছাড়ব না এবং এই লড়াই থেকে পিছিয়ে আসব না।’’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মোদী সরকারের প্রায় ২০০ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক বর্তমানে বিরোধীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ভেতরকার সমস্ত খবর পৌঁছে দিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রাহুল মন্তব্য করেন, ‘‘এই ব্যক্তিরা দেশের আত্মার ওপর আক্রমণ চালিয়েছেন, কিন্তু আমরা তাঁদের আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করাবই।’’ তিনি পরিষ্কার জানান, এই লড়াই কোনো ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থে নয়, বরং ভারতের সংবিধান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। দেশকে এই স্বৈরাচারী মানসিকতা থেকে রক্ষা করতে তিনি আপামর সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি বস্তুত ‘শিবের বরযাত্রী’, যেখানে দেশের সমস্ত স্তরের নাগরিক মুক্তমনে সামিল হতে পারেন।