গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস কি আপনার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে? জেনে নিন বমি বমি ভাব কমানোর ৫টি জাদুকরী উপায়!

গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নারী ‘মর্নিং সিকনেস’ বা বমি বমি ভাবের শিকার হন। যদিও একে ‘মর্নিং’ সিকনেস বলা হয়, কিন্তু এই অস্বস্তিকর লক্ষণগুলো দিনের যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে। যদিও এটি গর্ভাবস্থার একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, তবুও বমি ভাব এবং বমির কারণে স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া, পুষ্টি গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সঠিক কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এনে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ভিটামিন বি৬-এর জাদুকরী ভূমিকা:
গর্ভাবস্থায় বমি ভাব কমাতে ভিটামিন বি৬ অত্যন্ত কার্যকর। কলা, আলু, ছোলা, বিভিন্ন ধরণের বাদাম, বীজ এবং মুরগির মাংসের মতো খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬ থাকে। তবে এই সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার গাইনিকোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার:
খালি পেটে থাকা মর্নিং সিকনেসকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে না থেকে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা অন্তর অল্প অল্প করে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার খাদ্যতালিকায় টোস্ট, ক্র্যাকার্স, সাদা ভাত, দই, খিচুড়ি বা কলার মতো হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবারগুলো রাখুন। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং বমি ভাব অনেকটাই কমে আসে।

শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখুন:
পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন বমি ভাবকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। একবারে গ্লাস ভরে পানি পান না করে সারা দিন ধরে অল্প অল্প করে পান করুন। শরীরকে সতেজ রাখতে ডাবের পানি, পরিষ্কার স্যুপ, হালকা লেবুর পানি বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরস্যালাইন পান করতে পারেন।

পুদিনার ব্যবহার:
পুদিনার সতেজ ঘ্রাণ বমি ভাব কমাতে দারুণ কাজ করে। এক কাপ গরম পানিতে কয়েকটা পুদিনা পাতা দিয়ে চা তৈরি করে পান করতে পারেন অথবা শুধু পুদিনা পাতার ঘ্রাণ নিলেও আরাম পাওয়া যায়। তবে আপনার যদি আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুক জ্বলার সমস্যা থাকে, তবে পুদিনা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এটি অনেক সময় বুক জ্বলা বাড়িয়ে দিতে পারে।

আকুপ্রেশার রিস্টব্যান্ড:
আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, আকুপ্রেশার রিস্টব্যান্ড কব্জির ভেতরের দিকে ‘P6’ বা ‘নেইগুয়ান’ পয়েন্টে হালকা চাপ সৃষ্টি করে বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। এই ব্যান্ডগুলো ব্যবহার করা বেশ সহজ এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। হালকা থেকে মাঝারি বমি ভাবের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান হতে পারে।

তীব্র গন্ধ থেকে দূরে থাকুন:
গর্ভাবস্থায় নারীদের ঘ্রাণশক্তি অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। রান্নার তীব্র গন্ধ, পারফিউম বা বিশেষ কোনো খাবারের গন্ধ অনেক সময় বমি ভাবকে উসকে দেয়। এসব উদ্দীপক চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া গরম খাবারের তুলনায় ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার খাবার খেলে গন্ধ কম ছড়ায়, ফলে খাওয়ার সময় বমি ভাব হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

মনে রাখবেন, গর্ভাবস্থায় শরীর অনেকটা সংবেদনশীল থাকে, তাই কোনো প্রতিকারই নিজের ইচ্ছামতো দীর্ঘমেয়াদী করা উচিত নয়। যদি বমি ভাব মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় বা আপনি কিছুতেই খাবার হজম করতে না পারেন, তবে অবশ্যই দ্রুত আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। সঠিক সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আপনার গর্ভাবস্থাকে আরও আনন্দময় করে তুলতে পারে।