রাজ্যসভায় পদ্ম-ঝড়! তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপির টিকিটে শপথ নিলেন সুস্মিতা, সুখেন্দু ও প্রকাশ

ভারতীয় রাজনীতিতে দলবদলের হাওয়া এবং রাজ্যসভার সমীকরণে এক ঐতিহাসিক ও চমকপ্রদ মোড় দেখতে পেল দেশবাসী। আজ, সোমবার বেলা ঠিক এগারোটা নাগাদ সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় একে একে শপথগ্রহণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো তিন পরিচিত মুখ—সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইক। গত সপ্তাহেই রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন এই তিন ‘তৃণমূল ত্যাগী’ প্রার্থী। এরপর নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার খালি থাকা ৩টি আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো বিরোধী দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় তাঁরা প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সর্বসম্মতিক্রমে জয়ী হিসেবে নির্বাচিত হন। আর এই জয়ের পরেই আজ নির্ধারিত দিনে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন তাঁরা।

আজকের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি ঘিরে সংসদ চত্বরে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়, তেমনই ছিল একাধিক মনোগ্রাহী ও সাংস্কৃতিক চমক। এদিনের শপথপর্বে এক অনন্য বাংলা সংযোগ লক্ষ্য করা যায়, যেখানে তিনজন সাংসদই নিজেদের স্বকীয় ভঙ্গিমায় শপথবাক্য পাঠ করেন। বিশেষ করে সুস্মিতা দেব খাঁটি বাংলায় শপথ নিয়ে সকলের নজর কাড়েন। অন্যদিকে, বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখর রায় সম্পূর্ণ খাঁটি বাঙালি ঐতিহ্য মেনে গায়ে জড়ান ধুতি এবং পরনে পাঞ্জাবি পরে বাঙালিয়ানার এক অপূর্ব নিদর্শন রেখে রাজ্যসভায় শপথ নেন। পাশাপাশি, অপর সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইকও নিজের নির্দিষ্ট ভাষায় অত্যন্ত সাবলীলভাবে শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তিন নেতার শপথের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন তাঁদের সংসদীয় রাজনৈতিক যাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু হলো, তেমনই তা রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে এক শক্তিশালী বার্তা দিল।

এই ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উচ্চকক্ষে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক শক্তি এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে গেল। এর ফলে রাজ্যসভায় বাংলার প্রতিনিধিত্বকারী বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ৩ থেকে সরাসরি বেড়ে ৬ জনে উন্নীত হলো, যা বিরোধী দলের সাংগঠনিক মনোবলকে অনেকটাই চাঙ্গা করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যখন এই দলবদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছিলেন যে, “যাঁরা অতীতে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা লুঠ করেছেন, তাঁদের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টির দরজা চিরতরে বন্ধ। তবে যাঁরা আজ আমাদের পরিবারে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা এই দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকা ব্যতিক্রমী মুখ।” সব মিলিয়ে, রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন এই তিন হেভিওয়েট নেতার প্রবেশ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এক তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে চলেছে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।