এ কী কাণ্ড! বিশ্বকাপ হারের পরই এ কী পোস্ট করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট? চরম ট্রোলের মুখে জেভিয়ার মিলেই

ফুটবল বিশ্বে তখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের রোমাঞ্চকর ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে স্পেনের কাছে পরাস্ত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে যখন লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং দলের প্রতিটি ফুটবলার মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং গোটা দেশ শোকে স্তব্ধ, ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটে গেল এক চরম অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর কাণ্ড। আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপ্রধানের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে এমন একটি পোস্ট অবমুক্ত করা হলো, যা দেখে মনে হতে পারে তিনি আক্ষরিক অর্থেই অন্য কোনো গ্রহে বসবাস করছেন এবং তাঁর কাছে বিশ্বফাইনালের আসল ফলাফল এসে পৌঁছায়নি। দেশের শীর্ষ পদে আসীন একজন ব্যক্তির এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ও বোকামিপূর্ণ কাণ্ড দেখে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ নেটিজেনদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেছে।
ঘটনার নেপথ্যে জানা গেছে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জেভিয়ার মিলেই সম্ভবত আগে থেকেই একটি বিজয়োৎসবের খসড়া পোস্ট তৈরি করে রেখেছিলেন। তিনি একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন যে লিয়োনেল মেসির জাদুকরি পায়ে ভর করে আর্জেন্টিনা ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনকে হারিয়ে ফের বিশ্বজয় করবে। কিন্তু মর্মান্তিক হারের পর সেই আগে থেকেই সেট করে রাখা বা শিডিউল করা পোস্টটি সময়মতো ডিলিট করা আর হয়ে ওঠেনি। এর ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই বার্তাটি সর্বসমক্ষে প্রকাশ হয়ে পড়ে। সেই ভাইরাল পোস্টে প্রেসিডেন্ট মিলেই অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, বিশ্বকাপ জয়ের ব্লাড সেলিব্রেশন হিসেবে সারা দেশে এক দিনের বিশেষ ‘জাতীয় ছুটি’ ঘোষণা করা হবে। এমনকি ট্রফি জয়ের পর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে খুব শীঘ্রই সেই ছুটির সঠিক দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে বলেও সেই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বাস্তব চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আনন্দের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার মতো এই সরকারি ঘোষণাটি ছড়িয়ে পড়ে, তখন ঠিক তার বিপরীত প্রান্তে মাঠের ভেতর মেসিরা ফাইনালে হেরে গিয়ে শোকের সাগরে ভাসছিলেন। এমন একটি বেদনাদায়ক ও স্পর্শকাতর মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আত্মতুষ্টির বার্তা দেখে মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ঝড় বয়ে যায়। এর ঠিক কিছু সময় আগে, অর্থাৎ ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক কাছাকাছি সময়ে প্রেসিডেন্ট মিলেই আরও একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি দলের খেলোয়াড়দের লড়াই ও দায়বদ্ধতার প্রশংসা করে লিখেছিলেন, “আমাদের ফুটবলারদের অসংখ্য ধন্যবাদ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছি। আর্জেন্টিনা সবসময় এক নম্বরে থাকবে।” কিন্তু এই প্রশংসামূলক বার্তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাদেই সেই জাতীয় ছুটির বেফাঁস ঘোষণাটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং সকলে হতবাক হয়ে যান।
উল্লেখ্য, এই ফাইনাল ম্যাচের হারের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলের এক অবিশ্বাস্য স্বর্ণযুগের আপাত অবসান ঘটল। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ সালের ব্যাক-টু-ব্যাক কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও একবার বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ হাতছানি দিয়েছিল আলবিসেলেস্তে শিবিরের সামনে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে স্প্যানিশ তরুণ তুর্কিদের দুর্দান্ত আক্রমণের মুখে ভেঙে পড়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্গ। ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলল ‘লা রোজা’ বাহিনী। অন্যদিকে, স্পেনের মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল নিজের বর্ণময় ক্যারিয়ারে ইউরো কাপ জয়ের পর এবার সরাসরি প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেন। ২০১০ সালে যখন স্পেন প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন এই বিস্ময় বালকের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। দেড় যুগ পরে এসে সেই কিশোরই আজ ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নিলেন।