আপনার সন্তান কি একটু বেশিই চঞ্চল? এই লক্ষণগুলো দেখলে আজই সাবধান হোন!

শিশুর সারাদিনের ছোটাছুটি, হৈ-হুল্লোড় আর নানা বায়না ঘর আলো করে রাখে। কিন্তু এই চঞ্চলতার মাত্রা যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন তা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে বাবা-মাকে কাছে রেখে মোবাইল, ল্যাপটপ বা গ্যাজেট ব্যবহারের সুবাদে বর্তমানের শিশুরা অনেক দ্রুত সবকিছু আয়ত্ত করে ফেলছে। কথা বলার আগেই গ্যাজেটে পারদর্শী হয়ে ওঠার ফলেই মূলত সাধারণ চঞ্চলতা অনেক সময় আশঙ্কাজনকভাবে অতিচঞ্চলতা বা হাইপারঅ্যাকটিভিটিতে (Hyperactivity) রূপ নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের শিশুরা নিজেদের স্থির রাখতে পারে না এবং কোনো কাজেই দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এবং অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। এমতাবস্থায় অভিভাবক হিসেবে করণীয় কী, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন শিক্ষক ও বাবা-মায়েরা।
শিশুর এই অতিচঞ্চলতা নিয়ন্ত্রণে ঘরে বসেই কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে:
যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন: শিশুকে সৃজনশীল কাজের পাশাপাশি ইয়োগা বা মেডিটেশনের মাধ্যমে মন শান্ত রাখতে শেখাতে হবে। একটু বেশি সময় ও যত্ন নিয়ে খেয়াল রাখলে চঞ্চলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
নিয়মিত ঘোরাঘুরি ও খেলাধুলা: ঘরের চার দেওয়ালের বাইরে কিছু সময় হাঁটা বা খেলাধুলা শিশুর মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
নির্দিষ্ট স্থান বা পার্সোনাল স্পেস তৈরি: বাসার মধ্যে একটি শান্ত কোণ ঠিক করে দিন, যেখানে কিছু বই বা ছবিযুক্ত বই থাকবে। এই একান্ত পরিবেশে শিশু বই পড়া বা গান গাওয়ার সুযোগ পাবে।
মিউজিক বা আবৃত্তি: হালকা বাদ্যযন্ত্রের সুর কিংবা ছড়ার গান শিশুর বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করতে দারুণ কার্যকরী। ঘুমানোর আগে বা রাতের খাবারের সময় মিউজিক চালিয়ে রাখা যেতে পারে।
সুষম খাদ্যতালিকা: শিশুর সকালের খাবার যেন স্বাস্থ্যকর হয় সেদিকে নজর দিন। রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করলে বা খিদে পেলে শিশুরা বেশি চঞ্চল হয়ে ওঠে। একঘেয়ে খাবারের বদলে রকমারি স্বাস্থ্যকর পদ তৈরি করে দিন।
রুটিন মেনে চলা: অতিচঞ্চল শিশুর জন্য প্রতিদিনের কাজের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে দিন। স্কুল বা ছুটির দিন—কখন কী করতে হবে তা জানা থাকলে শিশুরা শৃঙ্খলিত থাকে এবং অতিচঞ্চলতা থেকে দূরে থাকে।
শিশুর মাঝে অতিরিক্ত চঞ্চলতার লক্ষণ দেখা দিলে সবার আগে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং তাঁর নির্দেশমতো ঘরোয়া যত্ন নিলে সুফল পাওয়া সম্ভব।