আমদাবাদে মালালার বই পড়া নিয়ে রণক্ষেত্র! গার্ডেনে জমায়েত হতেই হাতাহাতিতে জড়াল বজরং দল ও সুশীল সমাজ

ভারতের গুজরাটের আমদাবাদে শান্ত পরিবেশ হঠাৎই চরম উত্তেজনায় ফেটে পড়ল নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের একটি বই পড়াকে কেন্দ্র করে। বস্ত্রাপুর এলাকার আউডা (AUDA) গার্ডেনে নোবেলজয়ী মানবাধিকার কর্মী মালালার আত্মজীবনী ‘আই অ্যাম মালালা’ পড়ার জন্য সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষ একত্রিত হলে সেখানে উপস্থিত হন বজরং দলের ক্ষুব্ধ কর্মীরা। আর এই জমায়েতকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ যা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। বজরং দলের কর্মীদের অভিযোগ, ওই বইটির মাধ্যমে দেশবিরোধী ও কাশ্মীর সংক্রান্ত বিতর্কিত চিন্তাভাবনাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বই পড়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আহ্বান ও সংঘর্ষের সূত্রপাত
মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বস্ত্রাপুরের আউডা গার্ডেনে একত্রিত হয়ে মালালার বই পড়ার একটি গণ-উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সিভিল সোসাইটির সদস্য, স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং কংগ্রেস নেতা পার্থিব সিং কাথওয়াড়িয়াসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল, একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো ভালো বা তথ্যবহুল বই পড়ার ওপর কোনোভাবেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত নয়। তাদের দাবি ছিল, ওই নির্দিষ্ট মুক্তাঙ্গনে কেবল মালালার বই নয়, বরং মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহরুর মতো প্রথিতযশা লেখকদের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সামাজিক গ্রন্থও পড়া হচ্ছিল।
বজরং দলের তীব্র আপত্তি ও ভারতবিরোধিতার অভিযোগ
এদিকে, বজরং দলের কর্মীরা এই প্রকাশ্য বই পাঠের তীব্র বিরোধিতা করে জানান যে মালালা ইউসুফজাই অতীতে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বেশ কিছু আপত্তিকর ও ভারতবিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। তাদের দাবি, এই ধরনের ব্যক্তির বই পড়া বা প্রচার করা মানে পরোক্ষভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গিয়ে মানসিক উসকানি দেওয়া। এই মতপার্থক্যের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র তর্কাতর্কি এবং পরবর্তীতে শারীরিক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বই পড়তে আসা সাধারণ মানুষের স্পষ্ট অভিযোগ, বজরং দলের উগ্র কর্মীরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং জোর করে বই কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
স্কুল থেকে শুরু হওয়া বিতর্কের নতুন বিস্তার
বিশ্লেষকদের মতে, মালালার বইকে ঘিরে এই আকস্মিক সংঘাত হঠাৎ তৈরি হয়নি। এর ঠিক দু’সপ্তাহ আগে আমদাবাদ শহরের একটি নামী স্কুলের পাঠ্য তালিকার রিডিং লিস্টে এই বইটি অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। সেবারও বজরং দলের কর্মীরা স্কুল ক্যাম্পাসের সামনে প্রবল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। তৎকালীন চাপের মুখে পড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত সেই বইটিকে পাঠ্যসূচির তালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই এবার এই উন্মুক্ত জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা সংকটের জন্ম দিল। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।