জৈষ্ঠ্যের কাঠফাটা রোদে রসালো লিচুর স্বাদ নিতে কে না ভালোবাসে! বাজারে লাল টকটকে লিচুর পসরা দেখলেই জিভে জল আসা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই লিচুই যদি হয় কেমিক্যাল বা বিষাক্ত রঙে রাঙানো? সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, অপরিপক্ব লিচুকে দ্রুত পাকাতে এবং আকর্ষণীয় করতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। তাই বাজার থেকে লিচু কেনার আগে আপনার ছোট একটি ভুল বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
নিরাপদ ও সুস্বাদু লিচু চেনার জন্য আজকের প্রতিবেদনে রইল কিছু সহজ ও কার্যকরী উপায়।
১. রঙের জৌলুস দেখেই ভুলবেন না
লিচু কেনার সময় প্রথমেই তার খোসার দিকে নজর দিন। ভালো লিচুর রং সাধারণত উজ্জ্বল কিন্তু স্বাভাবিক হয়। তবে যদি দেখেন লিচুটি অস্বাভাবিক বেশি লাল বা অতিরিক্ত চকচকে, তবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং স্প্রে করা হয়।
২. স্পর্শেই মিলবে আসল পরিচয়
লিচু হাতে নিয়ে আলতো করে চাপ দিয়ে দেখুন। যদি খুব বেশি নরম লাগে, তবে বুঝবেন সেটি অতিরিক্ত পেকে গেছে বা ভেতর থেকে পচন শুরু হয়েছে। সতেজ লিচু সবসময় একটু টানটান ও শক্ত ধাঁচের হয়। অতিরিক্ত নরম লিচুতে টক গন্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৩. গন্ধ শুঁকেই বুঝে নিন গুণমান
পাকা ও ভালো লিচুর একটি মিষ্টি এবং সতেজ ঘ্রাণ থাকে। নাকের কাছে ধরলেই সেই সুগন্ধ আপনি অনুভব করতে পারবেন। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো লিচুতে কোনও স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ থাকে না; বরং অনেক সময় অদ্ভুত বা কড়া কেমিক্যালের গন্ধ পাওয়া যায়। এমন লিচু কেনা থেকে বিরত থাকুন।
৪. ঘরে ফিরে ‘জল পরীক্ষা’ জরুরি
লিচুতে রং মেশানো আছে কি না তা বোঝার সবথেকে সহজ উপায় হলো বাড়িতে এনে কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখা। যদি দেখেন জলের রং লালচে হয়ে যাচ্ছে বা লিচুর রং ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে, তবে নিশ্চিতভাবে তাতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে।
৫. খোসা ছাড়ানোর কৌশল
পাকা ও মিষ্টি লিচুর খোসা খুব সহজেই ছেড়ে আসে। যদি দেখেন খোসা শক্তভাবে লেগে আছে বা ছাড়ানোর পর ভেতরের অংশে বাদামি দাগ দেখা যাচ্ছে, তবে সেই লিচু না খাওয়াই শ্রেয়। এছাড়া ডাঁটি বা বোঁটার দিকে ছিদ্র বা ফাটল থাকলে সেই লিচুতে পোকা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
পেশাদার পরামর্শ: বাজার থেকে লিচু আনার পর সরাসরি খাবেন না। অন্তত এক ঘণ্টা পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে ফলের গায়ের ময়লা ও অবশিষ্ট রাসায়নিক দূর হবে। লিচু খাওয়ার আনন্দ যেমন জরুরি, শরীরের সুরক্ষা বজায় রাখাও ঠিক ততটাই প্রয়োজন।





