স্টাইল স্টেটমেন্ট হোক বা সাধারণ সিগারেটের বিকল্প— তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ই-সিগারেট বা ‘ভ্যাপিং’-এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। অনেকেরই ধারণা, এতে তামাকের ধোঁয়া নেই বলে এটি নিরাপদ। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন একদম উল্টো কথা। তাঁদের মতে, তথাকথিত এই “নিরাপদ” নেশার আড়ালেই লুকিয়ে আছে ক্যানসারসহ একাধিক মারণ রোগের বীজ।
কেন ই-সিগারেট আপনার শরীরের জন্য কাল?
ই-সিগারেট বা ভ্যাপে সরাসরি তামাক পুড়লেও, এতে ব্যবহৃত তরল বা ‘ই-লিকুইড’-এ থাকে নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক। গবেষণায় দেখা গিয়েছে:
রাসায়নিক বিষ: ই-সিগারেটের অ্যারোসল বা বাষ্পে ফর্মালডিহাইড এবং অ্যাক্রোলিনের মতো বিষাক্ত পদার্থ থাকে, যা কোষের ডিএনএ নষ্ট করে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।
ভারী ধাতু: ভ্যাপিং ডিভাইসের হিটিং কয়েল থেকে ক্যাডমিয়াম, নিকেল এবং সিসার মতো ভারী ধাতু বাষ্পের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে।
নিকোটিনের নেশা: ই-সিগারেটেও থাকে উচ্চমাত্রার নিকোটিন, যা হার্টের ওপর চাপ বাড়ায় এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।
ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি: ‘পপকর্ন লাং’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, ই-সিগারেটে ব্যবহৃত ফ্লেভারিং এজেন্টে ‘ডায়াসিটিল’ নামক এক ধরণের রাসায়নিক থাকে। এটি ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পপকর্ন লাং’ নামে পরিচিত। এর ফলে শ্বাসকষ্ট ও স্থায়ী কাশি দেখা দিতে পারে।
ভুল ধারণা বনাম বাস্তবতা
অনেকে ভাবেন ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তরুণরা ই-সিগারেট থেকেই পরবর্তীকালে সাধারণ সিগারেটের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া ই-সিগারেটের বিস্ফোরণ জনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যায় সবসময়।





