বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে ব্রাত্য করে খেসারত বিসিসিআইয়ের? সূর্যকুমারকে ফেরানোর দাবি অশ্বিনের!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে দল থেকে ছেঁটে ফেলে কি বড়সড় ভুল করল বিসিসিআই? আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের বিপর্যয়কর পারফরম্যান্সের পর এই প্রশ্নই এখন ভারতীয় ক্রিকেট মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। দলের করুণ দশা দেখে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, তখনই মুখ খুললেন ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সরাসরি বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অশ্বিন দাবি করলেন, সূর্যকুমার যাদবকে এখনই হিসাবের বাইরে ঠেলে দেওয়া অনুচিত।

সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ভারত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ এশিয়া কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জয় করেছিল। অথচ, ব্যাটিং ফর্মের সামান্য ওঠানামার অজুহাতে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় শ্রেয়স আইয়ারকে। এরপর থেকেই যেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের ছন্দপতন হয়েছে। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে টানা হারের পর পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাজ্যে খেলা সর্বশেষ সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের প্রাপ্তি মাত্র একটি ড্র, বাকি ছয়টি ম্যাচেই লজ্জার হার।

নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’-এ অশ্বিন অকপটে বলেন, “আমরা কোনো ক্রিকেটারের জন্যই দরজা বন্ধ করে দিতে পারি না। সূর্যকুমারের অভিজ্ঞতা এই মুহূর্তে দলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি এবং আইপিএলে পারফর্ম করে সে ফের দলে ফেরার দাবিদার হয়ে উঠতে পারে।” তবে যেভাবে তাঁকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাতে তাঁর প্রত্যাবর্তন কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে অশ্বিনের মনে সংশয় রয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় দলের ব্যাটিং অর্ডারে বাঁ-হাতি ব্যাটারের আধিক্য এবং স্পিনারদের খেলার ক্ষেত্রে যে দুর্বলতা ফুটে উঠেছে, তা দূর করতে সূর্যকুমার একাই যথেষ্ট হতে পারেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অশ্বিনের মতে, তিন নম্বর বা পাঁচ নম্বর পজিশনে তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার থাকলে দলের ভারসাম্য ফিরে পাওয়া সহজ হতো।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচকরা অশ্বিনের এই পরামর্শকে গুরুত্ব দেন কি না। তবে বাস্তব সত্য হলো, শ্রেয়স আইয়ারের জমানায় ভারতের এই টানা ব্যর্থতা বিসিসিআইয়ের অন্দরমহলে বড়সড় পরিবর্তনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা আইপিএলের আগামী মরসুমে সূর্যকুমার যদি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন, তবে নির্বাচকদের ওপর চাপ তৈরি করা ছাড়া উপায় থাকবে না। এখন শুধুই অপেক্ষা, কারণ সূর্যকুমারের ফেরার পথটি সহজ নয়, কিন্তু অসাধ্যও নয়।