আর মাত্র তিন সপ্তাহের অপেক্ষা। ফুটবল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আসর ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে চলা এই মহারণের উত্তেজনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লেও, ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দানা বেঁধেছে তীব্র উদ্বেগ। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করা হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর অনিশ্চয়তা। বড় কোনো টিভি চ্যানেল কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এখনও পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচারস্বত্ব কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, এর সমাধান খুঁজতে দ্বারস্থ হতে হয়েছিল আদালতের। জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে দাবি তোলা হয়েছিল, জাতীয় সম্প্রচারক সংস্থা ‘প্রসার ভারতী’ যেন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দূরদর্শনে দেখানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রসার ভারতী যে অবস্থান নিয়েছে, তা ফুটবলপ্রেমীদের হতাশায় ডুবিয়েছে। সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের কোনো বাধ্যবাধকতা তাদের নেই এবং স্বত্ব কেনার ব্যাপারে তারা বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়।
কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো? ফুটবল মহলের মতে, এর পেছনে রয়েছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সমীকরণ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় ভারত থেকে রেকর্ড সংখ্যক দর্শক ম্যাচ উপভোগ করেছিলেন। সেই সাফল্যের নিরিখে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচারমূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কোনো কোম্পানিই এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে রাজি নয়। ফিফা পরবর্তীকালে দাম কমিয়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলার করলেও, তাতে সাড়া মেলেনি। একমাত্র জিও হটস্টার ২০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ফিফা কর্তৃপক্ষ সরাসরি খারিজ করে দেয়।
সম্প্রচার সংস্থাগুলোর পিছিয়ে আসার পেছনে আরও একটি বড় কারণ হলো ‘টাইম জোন’ বা সময়ের পার্থক্য। এবারের বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে মেক্সিকো, আমেরিকা এবং কানাডায়। ফলে ভারতের সময় অনুযায়ী ম্যাচগুলো সাধারণত ভোরবেলায় অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রচারকদের আশঙ্কা, অদ্ভুত এই সময়ের কারণে দর্শকসংখ্যা আশানুরূপ হবে না, যার ফলে বিপুল বিনিয়োগ থেকে লভ্যাংশ উঠে আসা অসম্ভব। দিনশেষে এই অনিশ্চয়তার চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ দর্শকদের। যারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় দলের খেলা দেখার, তারা এখন অন্ধকারে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে কোনো অলৌকিক সমাধান বা নতুন কোনো সম্প্রচারক এগিয়ে আসে কি না। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বড়পর্দায় ফুটবল উৎসব দেখা নিয়ে শঙ্কার মেঘ কাটছে না।





