বিশ্বকাপ ফাইনালের পরই মাঠ কাঁপানো হাতাহাতি! ফিফার শাস্তির মুখে কি পড়তে চলেছেন আর্জেন্টিনার তারকা?

বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্তিম মুহূর্ত ও ম্যাচ শেষের ঠিক পরেই ফুটবল বিশ্ব এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী থাকল। মাঠের সবুজ গালিচায় আর্জেন্টিনা এবং স্পেনের ফুটবলারদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক, যা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতি এবং এক বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ নেয়। বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করতে চলেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফা। যদিও ফিফার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রাথমিক তথ্য বলছে যে এই পুরো ঝামেলার মূল সূত্রপাত করেছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররাই। সূত্রের খবর অনুযায়ী, স্পেনের উদীয়মান ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে সজোরে ঘুসি মারেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পেরেদেস। শুধু তাই নয়, আরেক স্প্যানিশ তারকা গাভির গলা চেপে ধরে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। দোষী প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অত্যন্ত বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে এই আর্জেন্টাইন তারকাকে। আর ঠিক এই বিস্ফোরক পরিস্থিতির মাঝেই ফিফাকে এক অত্যন্ত বিশেষ ও অপ্রত্যাশিত বার্তা পাঠালেন খোদ স্পেনের তারকা গাভি, যা শুনে রীতিমতো চমকে গেছেন তাবড় ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

জানা গিয়েছে, ম্যাচ শেষের সেই অনভিপ্রেত কান্ডকারখানার জন্য পেরেদেস কঠিন কোনো শাস্তির মুখোমুখি হোক, তা আদতে চান না খোদ গাভি। যেভাবে তিনি স্পেনের ফুটবলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন, তাতে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তাঁর অন্তত তিন ম্যাচের জন্য নির্বাসিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই রক্তাক্ত ও উত্তাল দিনের সমস্ত তিক্ত স্মৃতি চিরতরে ভুলে যেতে চাইছেন এই স্প্যানিশ তারকা। দেশে ফিরে আসার পর এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে গাভি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মতে, ওকে কোনোভাবেই নির্বাসিত করা উচিত নয়। আমি সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করছি যে মাঠে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি আগামী প্রজন্মের শিশু বা উদীয়মান খেলোয়াড়দের জন্য কোনো আদর্শ বা ভালো উদাহরণ হতে পারে না। কিন্তু আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে ফুটবলের একটি নিজস্ব ফিজিক্যাল এবং আক্রমণাত্মক বা আগ্রাসী দিক রয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন সময়েই রেফারি রেগে গিয়ে ওকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারতেন। সেটাই হত ওর জন্য সবচেয়ে বড় এবং উপযুক্ত শিক্ষা। তবে দিনের শেষে এটা শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ। আমার মনে হয়, উত্তেজনার মুহূর্তে ফুটবলে এরকম অনেক কিছুই হয়ে থাকে।” বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ তারকার এই পরিপক্ক ও উদার মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।

ম্যাচটির খুঁটিনাটি বিশ্লেෂণ করলে দেখা যায়, নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি বড় নাটক তৈরি হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ে কঠোর ট্যাকল বা অসদাচরণের দায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার তরুণ তারকা এনজো ফার্নান্দেজ। আর সেই ঘটনার পর থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল, যা ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরেও শান্ত হওয়ার নাম নেয়নি। এর পরেই এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে সরাসরি শারীরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন লিয়ান্দ্রো পেরেদেস। মাঠের এই উত্তপ্ত ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি কোনোভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আসরে নামতে বাধ্য হন দুই দলের প্রধান কোচিং স্টাফ এবং বাকি ফুটবলাররা। মাঠে উপস্থিত রেফারি সেই সময় লাউডস্পিকারে ঘোষণা করেছিলেন যে এই বিশেষ আচরণের জন্য পেরেদেসকে সরাসরি কার্ড দেখানো হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বা তুলে নেয় ফিফা। সেই নির্দিষ্ট সময়ে আর্জেন্টিনার ওই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই জানানো হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, ফিফা এই ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অচিরেই সম্পন্ন করবে।