‘সংঘাত নয়, আলোচনার টেবিলেই মিলবে সমাধান!’ নিট ও শিক্ষা আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য অভিনেতা রাজকুমার রাওয়ের

শিক্ষা ও সমাজসংস্কারকর্মী সোনম ওয়াংচুক যে ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবার বলিউড তারকারাও প্রকাশ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছেন। দেশের এই তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বার্থরক্ষার জোরালো দাবি নিয়ে সোনম যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছিলেন, তখন থেকেই তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে গোটা দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি জগত। এর আগে রবিবারই দিল্লির প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের সরাসরি মনোবল বাড়াতে যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন দেশের বর্ষীয়ান ও প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি। আর এবার ঠিক তার রেশ ধরেই আন্দোলনরত পরীক্ষার্থী ও পড়ুয়াদের পক্ষে অত্যন্ত জোরালোভাবে মুখ খুললেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও। সাম্প্রতিক এই ছাত্র আন্দোলন এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে অভিনেতার এই বার্তা নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের সামাজিক বার্তা ও বক্তব্যে রাজকুমার রাও একেবারে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের সংঘাত ও সহিংসতা কেবল সমাজের ক্ষতকেই গভীর করে তোলে। এর বিপরীতে একমাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও গঠনমূলক সংলাপই এই সমস্ত পুঞ্জীভূত ক্ষতে নিরাময়ের প্রলেপ হিসেবে কাজ করতে পারে। তাঁর সুদৃঢ় বিশ্বাস, একমাত্র আলোচনাই পারে যেকোনো জটিল রাজনৈতিক বা সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বার করতে। বর্তমান প্রজন্মের অভাব-অভিযোগ এবং দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে শোনার পাশাপাশি দেশে শান্তি, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং মানসম্মত ও সুষ্ঠু শিক্ষার অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তার কথা অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন এই তারকা।
বর্তমান আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ—উভয় পক্ষকেই সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক পথ খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের সেই বিশেষ বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমাদের দেশের নতুন প্রজন্ম যখন পরিষ্কার বুঝতে পারে যে তাদের না বলা কথাগুলো বা ক্ষোভগুলো কেউ শুনছে না, তখনই তারা বাধ্য হয়ে সমাজকে সে কথা নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। তারা রাষ্ট্রের কাছে বুঝিয়ে দেয় যে তাদের কথা শোনা এবং তাদের দাবিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া কতটা জরুরি।” শিক্ষার্থীদের নিজেদের মৌলিক উদ্বেগের কথা স্বাধীনভাবে তুলে ধরার সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি, তিনি আন্দোলনকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস রাখার বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, প্রশাসনের উচিত অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শোনা।
বার্তার একেবারে শেষ পর্যায়ে বাস্তবমুখী পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে রাজকুমার রাও লিখেছেন, “যেকোনো প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন কেবল আলোচনার মাধ্যমেই আসতে পারে, শক্তির প্রয়োগ বা সংঘাতের মাধ্যমে কস্মিনকালেও নয়। বর্তমান সময়ের জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পারস্পরিক আলোচনার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়।” এর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে শিক্ষার যে অবিসংবাদিত ভূমিকা রয়েছে, তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে নিজের বক্তব্য শেষ করেন এই অভিনেতা। তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে লেখেন, “আমরা দেশের সমস্ত নাগরিক সম্মিলিতভাবে মূলত একটাই বিষয় কায়মনোবাক্যে চাই—আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সার্বিক উন্নতি। আর সেই উন্নয়নের আসল ও প্রধান ভিত্তি হলো একটি উন্নত, সুষ্ঠু ও সকলের জন্য সমান সুযোগের শিক্ষা ব্যবস্থা।”