বিলেত সফরে ধুঁকছে টিম ইন্ডিয়া! রোহিত-কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রবিচন্দ্রন অশ্বিনের!

ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক বিলেত সফর একেবারেই আশানুরূপ হয়নি। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর, লর্ডসে অনুষ্ঠিত শেষ ওয়ান ডে ম্যাচেও পরাজয়ের স্বাদ নিয়ে ৫০ ওভারের সিরিজ হাতছাড়া করেছে টিম ইন্ডিয়া। ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার বিরাট কোহলি নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে দারুণ রান পেলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। আর এই শোচনীয় পারফরম্যান্সের পরেই ভারতীয় দলের দুই সিনিয়র তারকা রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি এবং কেএল রাহুলের মানসিক স্থিতি ও ফর্ম নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন তাঁদের দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও প্রবীণ অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বর্তমান সময়ে এই তারকা ব্যাটারদের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা এক গভীর অনিশ্চয়তা ও মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
ভারতের জার্সিতে কেরিয়ারের অন্তিম মুহূর্তের জল্পনা ও সমালোচনার মাঝেই লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে দুর্দান্ত এক শতরান হাঁকিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ‘হিটম্যান’ রোহিত শর্মা। লর্ডসের বাইশ গজে তিনি ১১০ বলে ঝকঝকে ১৩৮ রানের একটি মাস্টারক্লাস ইনিংস উপহার দেন। অশ্বিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রোহিত যদি সঠিক মানসিক কাঠামোর মধ্যে থেকে আরও একটু ঠান্ডা মাথায় খেলতে পারতেন, তবে একাই ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতেন। অশ্বিন তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বা আলোচনায় দাবি করেছেন, “এটি সত্যিই একটি দুরন্ত ইনিংস ছিল। ও যখন জশ টাঙের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পুল শটটা খেলল, তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে একটি বিশাল বড় ইনিংস অপেক্ষা করছে। আমার মনে হচ্ছে এটা ওর চোট সারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার সঠিক পথের মাত্র শুরু। ও যদি মানসিকভাবে আরও ভালো জায়গায় থাকত এবং আরেকটু বেশি আত্মবিশ্বাসী হতো, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ১৭০-১৮০ রানের কাছাকাছি স্কোর করে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়ত।”
অশ্বিন এখানেই থেমে থাকেননি, তিনি আরও যোগ করেন যে, “আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় রোহিত অত্যন্ত ভালো ছন্দে ব্যাট করছিল। তবে এখানে প্রধানত দুটি দিক তুলে ধরব। পিচটি ব্যাটিং সহায়ক ও বেশ শক্ত ছিল। কিন্তু কেএল রাহুল, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা—প্রত্যেকেই যখন ক্রিজে ব্যাট করছিলেন, তখন তাঁদের দেখে আমার বারবার মনে হচ্ছিল যে তাঁরা ভেতরে ভেতরে খানিকটা দ্বিধা ও দোটানায় ভুগছেন। বিষয়টি আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।” সিনিয়র ক্রিকেটারদের এই মানসিক দ্বিধা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলেই তাঁর ইঙ্গিত।
এদিকে, লর্ডসে তৃতীয় তথা শেষ ওয়ান ডে ম্যাচ সমাপ্ত হওয়ার ঠিক পরেই নিজের ক্রিকেটীয় ভবিষ্যৎ ঘিরে চলা প্রবল জল্পনা ও গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা নিজেও। তাঁকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমার একমাত্র কাজ হলো ভালো ব্যাটিং করা এবং দেশের হয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। আমি যেদিন থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়েছি, ঠিক সেদিন থেকেই আমার চারপাশ ঘিরে বাইরের বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা, সমালোচনা ও গুঞ্জন চলে আসছে। যতদিন আমি মাঠে আছি, এই ধরনের আলোচনা চলতেই থাকবে। আমার কাছে এই বাইরের আলোচনাগুলোর বিন্দুমাত্র কোনো গুরুত্ব নেই। আমার কাছে একমাত্র যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো আমি মাঠের ভেতরে কী পারফরম্যান্স করছি। আমি সর্বদা আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি এবং দলের সাফল্যে সর্বোচ্চ অবদান রাখার চেষ্টা করি। এখন আমি কেবল এই একটি দিকেই আমার শতভাগ মনোযোগ দিচ্ছি। আর এই বাইরের সমালোচকদের কথাগুলো চলুক না, এগুলো না থাকলে তো জীবনটাই ফিকে লাগত, কোনো মজাই থাকত না! আমার কাজ মাঠের ভেতরে ব্যাট হাতে জবাব দেওয়া আর বাকিদের কাজ মাঠের বাইরে নানা কথা বলা।”
অর্থাৎ, সমালোচকদের মুখে সপাটে ছক্কা হাঁকানোর পর সংবাদমাধ্যমের সামনেও নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তাদের এক হাত নিয়েছেন রোহিত শর্মা। সব মিলিয়ে বিলেত সফরের এই হতাশার পর ভারতীয় দলের পরবর্তী ওয়ান ডে অ্যাসাইনমেন্ট রয়েছে আসছে সেপ্টেম্বর মাসে। এখন দেখার বিষয় হলো, সেপ্টেম্বর মাসের সেই গুরুত্বপূর্ণ ওয়ান ডে সিরিজে রোহিত শর্মা আদৌ মাঠে নামেন কি না, নাকি তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা বর্তমান এই সমস্ত জল্পনা শেষ পর্যন্ত সত্যি হিসেবেই সিলমোহর পায়।